প্রথম পাতা » শিক্ষা ও ক্যারিয়ার

হতে পারেন পরিকল্পনাবিদ

পরিকল্পনাকে বলা হয় কাজের অর্ধেক। পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজেরই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কথাটি যেমন planingব্যক্তিজীবনে প্রযোজ্য, সমভাবে জাতীয় জীবনের জন্যও এর গুরুত্ব কম নয়। দেশের কথা বলতে তো পরিকল্পনা ছাড়া অসম্ভব। দেশের পরিকল্পনা হবে নগরে, অঞ্চলে, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে। রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজ, ইতিহাস, অর্থনীতি, ব্যবসা নিয়ে যেমন পড়ার বিষয় হতে পারে, তেমনি পরিকল্পনাও পড়ার অন্যতম বিষয়। আর সে লক্ষ্যেই নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ। দেশসেবা এবং ক্যারিয়ার উভয়ের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে এই বিভাগে পড়াশোনার পর। তাই আমাদের এবারের আয়োজন এ বিভাগ নিয়েই।

কী পড়ানো হয় এতে

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে সাধারণত যেসব বিষয় পড়ানো হয় সেগুলো হলো-

  • হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট
  • রুরাল অ্যান্ড রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট
  • এনভায়রনমেন্টাল প্লানিং অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট
  • ট্রান্সপোরটেশন অ্যান্ড প্লানিং ম্যানেজমেন্ট
  • সাইট প্লানি
  • আরবান প্লানিং
  • রিজিওনাল অ্যান্ড রুরাল প্লানিং
  • ইঞ্জিনিয়ারিং
  • সার্ভেইং অ্যানালিসিস অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন টেকনিক্স
  • প্রজেক্ট প্লানিং ম্যানেজমেন্ট
  • কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি।

কোথায় পড়বেন?

বাংলাদেশে এ বিভাগটি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভাগটি খোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বুয়েটে ১৯৬২ সালে থেকে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ বিভাগটি রয়েছে। তখন অবশ্য মাস্টার্স প্রোগ্রাম ছিল। ১৯৯৫ সালে আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং ১৯৯৭ সালে এই বিষয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হয়।

ভর্তিযোগ্যতা ও পরীক্ষাপদ্ধতি

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটে এই বিভাগে ভর্তি হতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গণিত, রসায়ন ও পদার্থ প্রতিটিতে কমপক্ষে জিপিএ ৪.০০ এবং ইংরেজিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। এ চারটিতে একত্রে জিপিএ ১৮.৫ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত এবং ইংরেজিতে শতকরা ৫০ ভাগ অবজেকটিভ টাইপের প্রশ্ন হবে। যার মূল্যায়ন ঙগজ দ্বারা করা হবে। বাকী শতকরা ৫০ ভাগ পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়ন প্রচলিত পদ্ধতিতে হয়।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা

উন্নত বিশ্বের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই এ বিভাগটি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির নাম দেয়া হলো আমেরিকার ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি, কুইনস ইউনিভার্সিটি, ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, লিসবনের লিউসোফানা ইউনিভার্সিটি, চীনের নর্থওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।

ক্যারিয়ার

বহুমুখী ক্যারিয়ার রয়েছে এই বিভাগের। সরকারের রয়েছে প্লানিং কমিশন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে প্লানিং বিভাগ। তাছাড়া প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাজের অবারিত সুযোগ আছে এনজিও-তে। কনসাল্টিং ফার্মে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কর্পোরেট সংস্থা, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, ব্যাংক, বীমাসহ যেকোন প্রতিষ্ঠানে এই বিভাগ থেকে পাশকরা শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

বিভাগীয় প্রধানের একান্ত সাক্ষাৎকারsarwarjahan

ড. সারওয়ার জাহান
বিভাগীয় প্রধান
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

কারেন্ট ইস্যু : ১৯৬২ সালে বুয়েটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাস্টার্স দিয়ে এ বিভাগটি চালু হয়, এর কি কোন পটভূমি আছে?
ড. সারওয়ার জাহান : শিল্প বিপ্লবের পর বিশ্বব্যাপী যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, তারই পথ ধরে অপরিকল্পিত নগরায়নে স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা দেয়, ফলে পরিকল্পনার বিষয়টি মাথায় আসে। সৃষ্টি হয় এ বিভাগ। এরপর বাংলাদেশে বুয়েটেই প্রথম এটি চালু হয়।
কারেন্ট ইস্যু : আমরা ঢাকার বর্তমান সমস্যার কথা যখন বলি তখন বিশেষজ্ঞরা একটি সমস্যার কথা বলেন যে পরিকল্পনার অভাব ছিল। তাহলে এ বিভাগ কী সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারেনি?
ড. সারওয়ার জাহান : আমরা পরিকল্পনা করেছি, কিন্তু বাস্তবায়ন তো আমাদের হাতে না। রাজউক-এ প্লানিং ইঞ্জিনিয়ার এর সংখ্যা মাত্র দুই/তিন জন। এত অল্প লোক দিয়ে কীভাবে চলবে? আর রাজউক’রও সুদূর প্রসারী কোন পরিকল্পনা ছিলনা। ফলে বর্তমানে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
কারেন্ট ইস্যু : এই বিভাগ থেকে পাশকরা শিক্ষার্থীরা কিভাবে দেশ সেবা করছে?
ড. সারওয়ার জাহান : শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই কাজ করে প্রাইভেট লেভেলে, এনজিও-তে, কনসাল্টিং ফার্মে। তবে আগামীতে এলজিআরডি’র ২২০ পৌরসভার পরিকল্পনায় আমাদের শিক্ষার্থীরা ভূমিকা রাখতে পারবে।
কারেন্ট ইস্যু : সরকারের প্লানিং কমিশন আছে, মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে আপনাদের অবদান রাখার সুযোগ কতটা?
ড. সারওয়ার জাহান : তেমন সুযোগ নেই, সরকার প্লান করছে বাজেটের, স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে সরকারের তেমন নজর নেই।
কারেন্ট ইস্যু : এ বিভাগ নিয়ে সরকারের কাছে কি কোন দাবী আছে আপনাদের?
ড. সারওয়ার জাহান : আমরা জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। সেজন্য সরকারের সকল পরিকল্পনায় আমাদের সুযোগ অবারিত করতে হবে। এছাড়া বিসিএসে আলাদা প্লানিং ক্যাডার থাকা দরকার যাতে আমরা দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারি।

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.