শাবিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু
সায়েদ আব্দুল্লাহ যীশু, শাবি॥ দেশের প্রথম
ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তারই অংশ হিসেবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৯-২০১০ সেশনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদন করবে। আগের ৪ টি ইউনিটের পরিবর্তে এবার ২ টি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ১২৩৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ কার্যালয়ে শাবির ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরমুহুর্ত থেকেই শিক্ষার্থীরা এ নতুন পদ্ধতিতে শাবিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারছে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তির জন্য আবেদন করা যাবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ অক্টোবর সকাল ১০ টায় ‘ক’ ইউনিটের এবং বিকাল ৩ টায় ‘বি’ ইউনিটের। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও শাবির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রেজাই করিম খন্দকার। তিনি জানান, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদেরকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারীদের মত কোন ফরম পূরণ করতে হবে না। টেলিটকের যে কোন নম্বর থেকে একটি এসএমএস করলেই যথেষ্ট। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ঘরে বসে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে আবেদনকারীকে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য যে কোন টেলিটক নম্বর থেকে বোর্ডের প্রথম ৩ বর্ণ, উচ্চ মাধ্যমিক/ সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, বৎসর, এবং কাঙ্খিত ইউনিটের কি ওয়ার্ড লিখে ৮৭৮ নম্বরে এসএমএস করতে হবে (উদাহরণ: DHA 123456 2009 A)। শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনকারী ভর্তি পরীক্ষার উপযুক্ত বিবেচিত হলে তার মোবাইল ব্যালেন্স থেকে নির্ধারিত ফি কেটে নিয়ে ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে তাকে একটি রোল নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। যা ভর্তি পরীক্ষাসহ ভর্তি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের বাড়তি কিছু কাজ করতে হবে। তাদের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে নেই বলে তাদেরকে প্রথমে www.sust.edu/admission ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের তথ্য জানিয়ে একটি কোড নম্বর সংগ্রহ করে আগের মতই টেলিটক নম্বর থেকে GCE কোড নম্বর, বৎসর, বোর্ড ও ইউনিট উল্লেখ করে ৭৮৭ নম্বরে এসএমএস করতে হবে (উদাহরণ: GCE 123456 2009 A)। ভর্তি পরীক্ষার দিন সকল আবেদনকারীকে ২ কপি রঙ্গিন ছবি নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ ওয়ার্ড কমিশনার/ গেজেটেড অফিসারের নিকট থেকে সত্যায়িত করে সঙ্গে আনতে হবে। ছবির পিছনে মেসেজের মাধ্যমে পাওয়া রোল নম্বর ও নাম লিখে দিতে হবে। যা আবেদনকারীর প্রবেশপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। ছবি ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ০১৫৫৫ ৫৫৫ ০০১-৫ নম্বরে ফোন, admission@sust.edu তে মেইল পাঠিয়ে কিংবা ২৭৭৭ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়েও ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য জানা যাবে। মেসেজ করার ক্ষেত্রে SUST লিখে প্রয়োজনীয় কী ওয়ার্ড যথা: Info, Date, Reqd GPA, Dept Unit A, Dept Unit B, Fees, Apply Unit A, Apply Unit B, Exam Subject A, Exam Subject B, Seat, Forgot Roll, Result, Help ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে (উদাহরণ: SUST Result)। ফিরতি মেসেজে কাঙ্খিত তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে।
বিভাগ ও আসন সংখ্যা:
‘এ’ ইউনিট: অর্থনীতি-৬৫ (বিজ্ঞান ৪০+মানবিক ২০+বাণিজ্য ৫), সমাজবিজ্ঞান-৬৫ (৩০+৩০+৫), পলিটিক্যাল স্টাডিজ-৬৫ (২০+৪০+৫), লোক প্রশাসন-৬৫ (২০+৪০+৫), নৃবিজ্ঞান-৬৫ (২০+৪০+৫), সমাজকর্ম-৬৫ (২৫+৩৫+৫), ব্যবসা প্রশাসন-৬৫ (৩৫+১০+২০), ইংরেজি-৬৫ (২৫+৩৫+৫) ও বাংলা-৬৫ (৫+৫৫+৫)।
‘বি’ ইউনিট: সায়েন্স: পদার্থ বিজ্ঞান-৬০, রসায়ন-৬০, গণিত-৭০, পরিসংখ্যান-৭০।
লাইফ সায়েন্স: ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স-৫০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি -৩০, ফুড এন্ড টি টেকনোলজি-৪০।
এপ্লায়েড সায়েন্স: কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-৬০, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স-৫০, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-৫০, সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং-৫০, পেট্রোলিয়াম এন্ড জিওরিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং-৩০ এবং আর্কিটেকচটর-৩০।
আবেদনের যোগ্যতা:
২০০৯/২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০০৭/২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা উভয় ইউনিটে এবং মানবিক ও বাণিজ্য থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা শুধু ‘এ’ ইউনিটেন মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীকে উভয় পরীক্ষার প্রতিটিতে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০সহ মোট জিপিএ ৭.০ পেতে হবে।
প্রশ্নপত্র:
প্রশ্নপত্র বাংলায় প্রণয়ন করা হবে। তবে কোন আবেদনকারী ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র পেতে চাইলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে তা অবহিত করতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি:
ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। কালো কালির বল পয়েন্ট কলম দিয়ে ওএমআর উপযোগি ফর্মে প্রশ্নোত্তর করতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার বিষয়:
মোট ৭০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ‘এ’ ইউনিটে আবেদনকারীকে আবশ্যিকভাবে ইংরেজি (২০), বাংলা (১০), বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক (১০) এবং ঐচ্ছিক হিসেবে বিজ্ঞান/ মানবিক/বাণিজ্য (৩০) নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। ‘বি’ ইউনিটে আবেদনকারীকে ইংরেজি (১০), পদার্থ (২০), রসায়ন (২০) এবং গণিত/ জীববিজ্ঞান (২০) নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার মোট সময় ১ঘণ্টা ৩০মিনিট। তবে ৯০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। আর্কিটেকচারে ভর্তিচ্ছুদের আলাদাভাবে ৩০ নম্বরের ড্রয়িং পরীক্ষা দিতে হবে।
প্রার্থী বাছাই পদ্ধতি:
মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরী করা হবে। লিখিত পরীক্ষা যত নম্বরেরই হোক তা ৭০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে এবং বাকী ৩০ নম্বর হিসাব করা হবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফল থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল গণনা করার সময় নিয়মিতদের বেলায় উভয় পরীক্ষার ফলাফলকে ৩ দিয়ে এবং অনিয়মিতদের বেলায় ২.৭ দিয়ে গুণ করা হবে।
শাবি ভর্তি পরীক্ষার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবার এবং ডিজিটাল ভর্তি কার্যক্রম সফ্টওয়্যারের এ প্রোগ্রামার খালেদ হাসান সজীব ও আবু আউয়াল মো: শোয়েব ডিজিটাল পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সত্যিকারের ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার প্রক্রিয়া হিসেবে এর ভর্তি পরীক্ষা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কারণে ভর্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য ব্যাপার ভর্তি ফরম বিতরণ, সংগ্রহ, ফরম থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করার মতো ব্যাপারগুলো আর থাকছে না। নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পুরো ব্যাপারটিই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফরম সংগ্রহ কিংবা পূরণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে না। শুরুতে শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মার্কস সংগ্রহ করা হবে। সেগুলো প্রক্রিয়াকরণ করে একটি ডাটাবেজ তৈরী করে টেলিটককে দেয়া হবে। আবেদনকারীদের কাছ থেকে এসএমএস পেলে মোবাইল অপারেটরের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেজ পরীক্ষা করে আবেদনকারী পরীক্ষা দেয়ার উপযোগী মনে হলে ভর্তির নির্ধারিত ফি কেটে নিয়ে তাকে ফিরতি মেসেজে একটি রোল নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। রোল নম্বরটি যেহেতু এসএমএস করে জানানো হবে, সেহেতু তাকে এটি সংরক্ষণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, আবদনকারীকে নিজের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবেনা, ভর্তি কমিটিই প্রয়োজনে আবেদনকারীর যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করবে। যা বিস্ময়কর মনে হলেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তার সবটাই সম্ভব। ভর্তির আবেদনের জন্য সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। শুক্র, শনি কিংবা সরকারি ছুটির দিনের পার্থক্যও থাকছে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে কোন সময় যে কোন মুহুর্তে আবেদন করা সম্ভব।









লেখাটি পড়ে ভাল লেগেছে। সাম্প্রতিক কোন ঘটনার উপর এরুপ তথ্যবহুল লেখা খুবেই গুরুত্ব বহন করে। আমি খুজতে ছিলাম এরুপ তথ্য।
ধন্যবাদ।
মো: হাফিজুর রহমান বাবু
আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি ভবিষতেও মন্তব্য করে এবং পরামর্শ দিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন।
ভালো থাকবেন। আগাম ‘ঈদ মুবারক‘।
এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!
Bangla Problem?
For Best View, Use Mozilla Firefox. Download Here.
Install Bangla Font. Click Here.
ইমেইল থেকেই পড়ুন কারেন্ট ইস্যু!
আর্কাইভ
Our Suggestion