বাংলাদেশ রেলওয়ে : এক মহাক্রান্তিকাল
বিশ্বে প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয় ১৮২৫ সালে ব্রিটেনে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে ১৮৫৩ সালে ভারত উপমহাদেশে লর্ড ডালহৌসি রেলগাড়ির প্রবর্তন করেন। বাষ্পীয় ইঞ্জিন দ্বারা চালিত রেলগাড়ির যুগ শুরু হয় বাংলাদেশেও। ১৮৬২ সালে দর্শনা হতে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৪১ কি.মি. রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারপর থেকেই ঢিমেতালে চলছে রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখেছেন মহিবুল হাসান।
রেলপথ কমেছে ৩০০ কিলোমিটার
বেদখল ৬০ হাজার একর জমি
বার্ষিক লোকসান ৪০০ কোটি টাকা
সংস্কারের অভাব, দুর্নীতিতে সয়লাব¢
জনশক্তির অভাব, কর্তৃপক্ষ উদাসীন
বাড়ছে দুর্ঘটনা, অভাব দক্ষ ব্যবস্থাপনার
পরিত্যক্ত রেললাইন, সংকট ইঞ্জিন-ওয়াগনের
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রেলব্যবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হলেও আমাদের দেশে এ খাতকে ক্রমেই সংকুচিত করা হচ্ছে । ব্যাপক যাত্রী চাহিদা থাকার পরও দিনে দিনে লোকসান গোনা আর সেবা সংকোচনের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। স্বাধীনতার পর থেকে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ধীরে ধীরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি আর অনিয়ম রেলওয়েতে গেড়ে বসতে থাকে। নীতি-নির্ধারকদের সঠিক মনোযোগ না থাকায় সড়ক পরিবহনে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়। ফলে অবহেলার শিকার হতে থাকে রেল। ১৯৯০ সাল থেকে কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির (স্যাপ) আওতায় শুরু হয় রেলকে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহযোগিতায় ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার নামে জনবল কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে রেলখাত হয়ে ওঠে লোকসানি ও সংকোচনমুখী। রেলওয়েরে দুর্দশায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেশের সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে দেড় বছর আগে গঠিত হয় ‘রেল কমিশন’। কমিশন রেলকে রাষ্ট্রের আওতায় রেখে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করার দাবি জানাচ্ছে। কমিশনের অন্যতম কর্মকর্তা আবু নাসের খান বলেন, রেল খাতকে পরিকল্পিতভাবে লোকসানি দেখানো হচ্ছে। অথচ খাতটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ার পরও রেল খাতের ওপর সরকার কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।
সংকুচিত হচ্ছে রেলপথ
ব্রিটিশ আমল থেকে একাধারে পরিবেশবান্ধব, সুলভ ও নিরাপদ যানবাহন হিসেবে রেলগাড়ির যাত্রা শুরু হয় এই উপমহাদেশে। ১৮৬২ সালে ৪১ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইন নিয়ে শুরুর পর নানা বাঁক পেরিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ রেলওয়ে । দেড়শ বছরের ইতিহাসে এই রেলওয়ের কখনো আসাম-বাংলা রেলওয়ে, কখনো পূর্ব-বাংলা রেলওয়ে হয়ে ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ রেলওয়ে নাম ধারণ করে। সেই ব্রিটিশ আমলেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন স্থানে রেলস্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর থেকে ওই আদলেই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে ৩৭ বছরে রেল খাতকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। হয়নি সড়কপথের সঙ্গে সঠিক সমন্বয়। আর তাই দিন দিন কমছে রেলস্টেশন, পরিত্যক্ত হচ্ছে রেলপথ। স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হলেও রেলপথ না বেড়ে বরং কমেছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার দাতাদের পরামর্শে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে পৌঁনে ৩০০ কিলোমিটার রেললাইন বন্ধ করে দেয়। এ সময় পূর্বাঞ্চলের ফেনী-বিলোনিয়া, শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা, হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ, পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিহাট-মোগলহাট, রূপসা-বাগেরহাট, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া ভেড়ামারা-রায়টা ও পাঁচুরিয়া-পুকুরিয়া লাইনে রেল চলাচল বন্ধ হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের বিরাট একটি অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। লালমনিরহাট-মোগলহাট লাইনটি ১৯৯৬ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ৯ কি.মি দীর্ঘ পথে স্লিপার ও নাটবল্টু লুটপাট হচ্ছে অবাধে। চার বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে কুড়িগ্রাম পুরনো স্টেশন থেকে খলিলগঞ্জ লাইনটিও। ৭ কি.মি. দীর্ঘ লাইন উপড়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরিত্যক্ত পঞ্চগড়-রুহিয়া লাইনটিও। একইভাবে আখাউড়া সেকশনে বাল্লা-শায়েস্তাগঞ্জ, সিলেট-ছাতক, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্থানীয় জনগণের চালু রাখার দাবি সত্ত্বেও।
একইভাবে স্টেশনের সংখ্যাও কমে গেছে। ১৯৬৯-৭০ সালে স্টেশনের সংখ্যা ছিল ৪৭০টি। এখন তা হয়েছে ৪৪১টি। সবচেয়ে বেশি কমেছে ব্রডগেজ স্টেশনের সংখ্যা। এর মধ্যে রেলের পূর্বাঞ্চলে ১৯৯৮-৯৯ সালে স্টেশন ছিল ২৪৪টি। এখন আছে ২২৬টি।
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২০টি জেলা এখনো রেল নেটওয়ার্কের বাইরে। কিন্তু ১০০ কি.মি. থেকে ২০০ কি.মি. পর্যন্ত রেললাইন আছে এমন জেলার সংখ্যা মাত্র ছয়টি। ৫০ থেকে ১০০ কিমি রেললাইন রয়েছে এমন জেলার সংখ্যা ১৮টি। আর বাকি ২০ জেলায় লাইনের দৈর্ঘ গড়ে ৫০ কি. মি.।
১৯৪৭ সালে সড়কপথের দৈর্ঘ্য ছিল ৬০০ কি.মি.। এখন (২০০৭) তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪৯ হাজার কি.মি। যেখানে সড়কপথ দিনে দিনে বাড়ছেই সেখানে কমে যাচ্ছে রেলপথ।
দুর্ঘটনা বাড়ছে : সংস্কারের অভাব
| ট্রেন দুর্ঘটনা | |||||
| বছর | সংঘর্ষ | লাইনচ্যূত | অগ্নিকাণ্ড | চলন্ত ট্রেনে বাধা | মোট |
| ১৯৯৫-৯৬ | 8 | 228 | – | 3 | 239 |
| ১৯৯৬-৯৭ | 9 | 389 | – | 15 | 413 |
| ১৯৯৭-৯৮ | 8 | 233 | – | 16 | 257 |
| ১৯৯৮-৯৯ | 5 | 304 | – | 49 | 358 |
| ১৯৯৯-০০ | 6 | 405 | 1 | 44 | 456 |
| ২০০০-০১ | 5 | 510 | – | 37 | 552 |
| ২০০১-০২ | 14 | 624 | 3 | 67 | 708 |
| ২০০২-০৩ | 13 | 482 | 2 | 27 | 524 |
| ২০০৩-০৪ | 8 | 723 | – | 23 | 754 |
| ২০০৪-০৫ | 7 | 592 | 30 | 30 | 78 |
| ২০০৫-০৬ | 3 | 790 | – | 37 | 830 |
| ২০০৬-০৭ | 1 | 510 | – | 17 | 528 |
রেলপথে দুর্ঘটনা সড়কপথের চেয়ে কম হয়। রেলওয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে, রেললাইন সংস্কার না হওয়ায় লাইনচ্যুত হয়ে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। রেলপথে দুই ধরনের স্লিপার থাকে। একটি কাঠের ও অন্যটি পাথরের। পাথরের স্লিপার পচে যায়। কাঠের স্লিপারের বয়স ১২ বছর হলেও বহু স্থানেই তিন যুগ পরেও স্লিপার পরিবর্তন করা হয়নি।
১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এক দশকের ব্যবধানে রেল দুর্ঘটনার হার প্রায় আড়াইগুণ বেড়ে যায়। ১৯৯০-৯১ সালে দুর্ঘটনা ঘটে ২৩১টি। কিন্তু ২০০০-২০০১ সালে দুর্ঘটনা ঘটে ৫৫২টি। ১৯৯০-৯১ সালের তুলনায় বর্তমানে দুর্ঘটনা আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। ১৯৯০-৯১ সালে ২৩১টি দুর্ঘটনা ঘটলেও ২০০৬-০৭ সালে সব মিলিয়ে দুর্ঘটনা হয় ৫২৮টি। এর আগে ২০০৫-০৬ সালে ঘটে ৮৩০টি দুর্ঘটনা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লাইনচ্যুতির কারণেই শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্বিতীয় কারণ সংঘর্ষজনিত। এছাড়াও অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্নিকাণ্ড ও লাইনে প্রতিবন্ধকতা। রেলওয়ের এ সংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা গেছে, ২০০৬-০৭ সালের ৫২৮টি দুর্ঘটনার ৫১০টিরই কারণ ছিল লাইনচ্যুতি।
পর্যাপ্ত জনশক্তি নেই
| জনবল | |
| বছর (জুন-জুলাই) | জনশক্তি |
| ১৯৯৯-০০ | ৩৭,৪৭৩ |
| ২০০০-০১ | ৩৬,৭৬১ |
| ২০০১-০২ | ৩৫,৫৪০ |
| ২০০২-০৩ | 34727 |
| ২০০৩-০৪ | 34168 |
| ২০০৪-০৫ | 35172 |
| ২০০৫-০৬ | 34206 |
| ২০০৬-০৭ | 33195 |
বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৯৬৯ সালে বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ৮২৫ জন। ৩৮ বছরের ব্যবধানে ২০০৭ সালে এই জনবল কমে ৩৩ হাজার ১৯৫ জন হয়েছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসন্ধানে দিনদিন জনবল কমে যাওয়ার চিত্র ধরা পড়ে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংকট চরম আকারে রূপ নিয়েছে। ওয়েম্যান, গ্যাংম্যানসহ বিভিন্ন পদে কোনো কোনো স্টেশনে কোনো জনবলই নেই। ১৯৮২ সালের আগ পর্যন্ত রেলওয়ে বোর্ড পুরো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত। এরপর পশ্চিম ও পূর্ব জোনে বিভক্ত করে ৬ কর্মকর্তার বদলে এখন ১৬০ জন কর্মকর্তা দিয়ে প্রশাসন করা হয়েছে মাথাভারি। কিন্তু রেলের জন্য কর্মচারীর পদে নিয়োগ দেখা হচ্ছে না।
জানা গেছে, চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আগামী ২০১০ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৮ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ শূন্য হয়ে যাবে। কিন্তু নতুন নিয়োগ না দিলে রেলওয়ে জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়বে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর সাত থেকে আটগুণ বেশি কাজের চাপ পড়ছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার চাপ সামলাতে রেলওয়ের ১৩টি বিভাগের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই নির্ধারিত কাজ সময়মতো সম্পাদন হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেলপথে জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। সেবা ও ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল করতে জনবলের প্রয়োজন হলেও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে’৯০-র দশকে রেলওয়ের জনবল ছাঁটাই করা হয়।
রেলওয়েতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব রয়েছে। রেলওয়েতে পরিপূর্ণ চালক হতে গেলে কমপক্ষে ১০ বছর লাগে। এর আগ পর্যন্ত তাকে চালকের সহকারী থাকতে হয়। এছাড়া স্টেশনের মাস্টার হতে গেলে কমপক্ষে ৭-৮ বছর সময় লাগে। জনবল সংকটের কারণে অনেক রুটের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চালক ও মাস্টার ছাড়াই কর্মকাণ্ড চলছে।
নেই ওয়াগন, ইঞ্জিনও
রেলের ইঞ্জিন, যাত্রীবাহী গাড়ি, ওয়াগন এগুলো হচ্ছে রেলওয়ের রুলিং স্টক। প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে এসব রুলিং স্টক মেরামত করা সম্ভব হয় না। এ কারণে রুলিং স্টকগুলো বহু আগেই অচল হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলীরা জানান, রেলের ইঞ্জিন কমপক্ষে ২০ বছর সচল রাখা সম্ভব। তবে সময়মতো মেরামত না হওয়ায় ৫০ শতাংশই বিকল হয়ে আছে। বছরে একবার মেরামত করে যাত্রীবাহী গাড়ি ৩৫ বছর সচল রাখা সম্ভব। আন্তঃনগর রেলগাড়িও এক বছর পর মেরামতের জন্য কারখানায় পাঠাতে হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে মেরামত না হওয়ায় অর্ধেকের বেশি গাড়ি রেলপথে চলছে অনেকটা ধুঁকে ধুঁকে। আবার মালবাহী ওয়াগন ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হলে সচল থাকে ৪৫ বছর। ওয়াগনগুলো কিছুটা নিয়মিত মেরামত করা হয় বলে ৯০ শতাংশই ঠিকমতো চলছে।
রেলওয়ের রুলিং স্টক পরিস্থিতিও ভয়াবহ। ১৯৬৯-৭০ সালের চেয়ে বর্তমানে রুলিং স্টকের পরিমাণ অর্ধেকে নেমেছে। ১৯৬৯-৭০ সালে মালবাহী ওয়াগনের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৪৩৯টি। ২০০০-২০০১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৫৩৩টিতে। রেলের ইঞ্জিন পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। ১৯৭০ সালে রেলের ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি। ২০০০ সালে তা কমতে কমতে ২৭৭টিতে উপনীত হয়। বর্তমানে এগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। জানা গেছে, চাহিদা থাকলেও ইঞ্জিন ও ওয়াগনের সংকটের কারণে গাড়ির সংখ্যা বাড়নো সম্ভব হচ্ছে না। তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্যাংকারের সংকটও রয়েছে।
লোকসান ৪০০ কোটি টাকা
স্বাধীনতার ৩৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধু এক বার লাভের মুখ দেখে। এখন লোকসানের পরিমাণ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। রেলওয়ের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের লাভ হয় এক কোটি টাকা। ১৯৭৩-৭৪ সালে লোকসান হয় ৪১ লাখ টাকা। এই লোকসানের পরিমাণ ক্রমে বেড়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। বিপুল পরিমাণ লোকসান কাটাতে পাবলিক সার্ভিস অবলিগেশনের নামে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। ২০০০-২০০১ সালে এই ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি টাকার ওপরে। বর্তমানে বছরে গড়ে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
লালমনিরহাট জোনে ৮১টি রেলওয়ে স্টেশন। প্রতি মাসে ৬ লক্ষাধিক যাত্রী নিয়মিত চলাচলের মাধ্যমে রেলের বার্ষিক আয় বর্তমানে ২২ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা কম।
রেলওয়ের লোকসানের নেপথ্য কারণ , ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে পণ্য পরিবহন ক্রমশ কমছে। সড়কপথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা সড়ক পথের দিকেই ঝুঁকছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে পঞ্চগড়ের ভূ-গর্ভস্থ নুড়িপাথর পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা, যা এখন প্রায় শূন্য। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে অনেকেরই ধারণা।










আপনার পক্ষে যদি প্রতিদিন এই সাইটে আসা সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি আমাদের
এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!