প্রথম পাতা » Featured

বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল: একটি পর্যালোচনা

বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে পর্যাপ্ত জীবাশ্ম তথ্য পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, টারশিয়ারী যুগে বাংলাদেশের অংশবিশেষ বিস্তৃত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যের অন্তর্ভুক্ত। আবহাওয়ার দিক থেকে বিবেচনায় এ দেশকে তিন ঋতুতে ভাগ করা যায়; এদের মধ্যে গ্রীষ্মকাল- মার্চ হতে মে মাস, বর্ষাকাল- জুন হতে অক্টোবর এবং শীতকাল- নভেম্বর হতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধরা হয়। এদেশের গড় তাপমাত্রা জানুয়ারি মাসে ১৭.৮ সেন্টিগ্রেড এবং এপ্রিল মাসে ২৬.৭ সেন্টিগ্রেড। এছাড়া অনেক সময় সেপ্টেম্বরেও দ্বিতীয়বারের মতো তাপমাত্রার বৃদ্ধি হয়। গ্রীষ্মের শুরুতে প্রতি বৎসরই উত্তর-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ মাইল বেগে কালোবৈশাখী ঝড় প্রবাহিত হয়। এর প্রভাবে উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতে প্রভুত ক্ষতি সাধিত হয়। বর্ষার শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এদেশের গড় বৃষ্টিপাত বাৎসরিক ৫০-২০০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়।

টারশিয়ারি যুগের পরই বাংলাদেশের নিকটবর্তী অঞ্চলে গুপ্তবীজী উদ্ভিদের বেশ কিছু জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়।

Flora (উদ্ভিদ)
বাস্তুসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের উদ্ভিদ অঞ্চলকে নিম্নোক্ত উদ্ভিদ অঞ্চলে ভাগ করা যায় :

১. গঙ্গা নদীর বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল (The Gangetic Plane),
২. চিরহরিৎ ও পত্রঝরা অরণ্যাঞ্চল (Evergreen and Semievergreen Forests),
৩. পত্রঝরা অরণ্যাঞ্চল (Deciduous Forests) Ges
৪. ম্যানগ্রোভ অরণ্যাঞ্চল (Mangrove Forests)|

গঙ্গা নদীর বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল
প্রায় সমগ্র বাংলাদেশই একটি বিস্তীর্ণ সমভূমি। এছাড়া বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে কিছু অনুচ্চ পাহাড়, পর্বত ও টিলা বর্তমান। বিভিন্ন নদী ও এদের শাখা-প্রশাখা দেশের বুকে জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে। আর এ বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল নদীগুলোর বিধৌত পলিমাটি দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের উদ্ভিদসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমন জলজ উদ্ভিদ, অনাবাদি জমির উদ্ভিদ ও আবাদি ফসলসমূহ। বাংলাদেশে অসংখ্য বিল, হাওর, জলাশয় ও পুকুর বিদ্যমান। বর্ষার সময় এরা পানি দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে এবং গ্রীষ্মের সময় আংশিক শুকিয়ে যায়। এ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী উদ্ভিদরাই জলজ উদ্ভিদ। এদের মধ্যে পাতা শ্যাওলা, পাতা ঝাঁকি, ঝাঁকি, Najas, Nitella এবং ভাসমান উদ্ভিদের মধ্যে কচুরীপানা, শাপলা, পদ্ম, কচুপানা, ক্ষুদিপানা,Salvinia, Pistia, গুড়িপানা ও সিংগারা ইত্যাদি প্রধান। হাওর, বিল, ঝিল ও পুকুরের কিনারায় স্যাঁতসেঁতে মাটিতে Arundo, Erianthus, Scirpus, কলমী, হেলেঞ্চা, sagitaria, Monochoria, Limnophila heterophylla, Spargonium, Alisma, কস্তুর, Limnocharis, Cyanotis, Murdania ও বিভিন্ন প্রজাতিরCommelina ইত্যাদি জন্মে থাকে।আবাদযোগ্য জমি ছাড়া বাড়ির আঙিনার আশ পাশে, রেললাইনের পার্শ্বে, রাস্তার ধারে, নদীর কিনারায় এবং অন্যান্য পরিষ্কার জায়গায় প্রচুর পরিমাণে ঔষধি, গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের সমাবেশ বর্তমান। এ সকল উদ্ভিদের মধ্যে শ্বেতদ্রুন, ক্রোটন, Cassiatora, কলকাসুন্দা, Amaranthus viridis, কাঁটানটে, কাকমরিচ, কান্তিকরি, ধুতুরা, পানিমরিচ, হাতিশুড়, শিয়ালমতি, চারালতা, ভাট, মুক্তাঝুরি, কচু, ঘাঘড়া, রক্তদ্রুন ইত্যাদি প্রধান। এছাড়া খেজুর, সুপারি, তাল, নারিকেল, তেতুল, বট, জিকা, Zizyphus mauritians আকন্দ, বাবলা ইত্যাদি জন্মে থাকে। সমতল অঞ্চলে ধান, পাট ও বিভিন্ন প্রকার রবিশষ্য, সরিষা ইত্যাদি জন্মে। দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে চা, আনারস, জাম, আম, কাঁঠাল, সুপারি, কলা ও বাঁশ, বেত ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে জন্মে।

চিরহরিৎ ও পত্রঝরা অরণ্যাঞ্চল
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদসমূহ ৪৫-৬২ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এ জাতীয় বনে প্রায় ৭০০ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ রয়েছে। এ এলাকার উদ্ভিদসমূহকে চারভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-চিরহরিৎ, পত্রঝরা, বাঁশঝাড় ও তৃণক্ষেত্র। চিরহরিৎ বৃক্ষরাজির মধ্যে গর্জন, Artocarpus-sp, Tonaciliata, Bursera, swintonia floribunda, মেহগনি, কালিগর্জন, ধুলিগর্জন, সিভিট, কামদেব, রক্তন, শিরিষ, জারুল, অর্জুন, বট, কর্ক, অশোক, ধুপ, চালী, চুন্দাল, ফার্ণ, মস, অর্কিড জাতীয় ইপিফাইটাস বর্তমান। পত্রঝরা উদ্ভিদের মধ্যে সেগুন, চালতা, গামারি ও Terminalta এর বিভিন্ন প্রজাতি বিদ্যমান।

পর্ণমোচি উদ্ভিদের মধ্যে পলাশ, হলুদ, বাজনা হারগোজা, কুসুম, উদাল, ঢেপাজাম, বহেড়াকুর্চি, হরীতকী পিতরাজ, সোনালু, আশার, আমলকী, আদাগাছ ইত্যাদি জন্মে । তৃণ জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে কাঞ্চনলতা, কুমারিলতা, গজপিজল, পানিলতা, Dioseorea species, শতমূলী, গিলালতা ইত্যাদি প্রধান।

পত্রঝরা বনাঞ্চল
এ বনাঞ্চল দেশের মাঝামাঝি ও উত্তর অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত শুকনা এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো রয়েছে। বেশির ভাগ বনাঞ্চল ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মাঝামাঝি হতে ঢাকা জেলার উত্তর অংশ নিয়ে ৬০ মাইল লম্বা ও ৫-২৫ মাইল চওড়া এলাকা নিয়ে গঠিত। এ বনের প্রধান বৃক্ষ শাল, এ জন্য এ বনগুলিকে সাধারণত শালবন বলে। নিম্নে কয়েকটি শালবনের উদ্ভিদ উল্লেখ করা হল :

(ক) রাজেন্দ্রপুর শালবন : এ বনাঞ্চল ঢাকা হতে প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। এ এলাকার উদ্ভিদের মধ্যে ৯৮ ভাগই শাল, তবে মিশ্রিত অবস্থায় আছে Phyllanthus embelica, Randia sp. Flacourtia sp. Eupatorium odoratum, Albizia, GQvov Desmodium sp. Stylosia scara baeoides, Moghania fruticulose ইত্যাদি লিগুম জাতীয় হার্ব ও Spatholobus roxburghii, Similax Xp, Dioseorea glabra and D. pertaphylla ইত্যাদি আরোহী জাতীয় এবং শাল বৃক্ষের উপর পরজীবী হিসাবে Loranthus দেখতে পাওয়া যায়। এ এলাকায় প্রচুর ফলের চাষ হয়। এ স্থানে যে সকল উদ্ভিদ দেখা যায় তাদের মধ্যে Artocarpus heterophyllus, Albizia sp, Salmalia malabarica, Grewia sp, Xanthoxylum budrunga,Ervatamia Coronaria, Roindia sp, Glycosmis arborea এবং বাঁশ প্রধান।

(খ) চন্দ্রা অঞ্চল : এ অঞ্চল ঢাকা হতে ৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। এর প্রধান বৃক্ষ শাল। এছাড়া মধ্যম স্তরের উদ্ভিদের মধ্যে Albizia procera, Fhyllanthus embelice, Eugenia sp., Aegle marmelos careya arborea Ges তৃতীয় স্তরের উদ্ভিদের মধ্যে curcuma sp., Antidesma ghaesembilla, Flacourtia. Sepiaria, Glycosmis arborea Glochidion sp., Hemidesmus indicus ইত্যাদি প্রধান। এছাড়া মাটির উপর আবরণীয় অবস্থায় Curculigo sp., Asparagus acerosus, Alysicarpus vaginalis, Atylosia scarabaeoides ইত্যাদি প্রধান।

(গ) মধুপুর : টাঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ এবং ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে গঠিত। এর দৈর্ঘ ও প্রস্থ যথাক্রমে ৭০ ও ৩৫ মাইল এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। এ এলাকার প্রধান উদ্ভিদ শাল এবং সহযোগী হিসেবে dillenia pentagyna, Terminalia sp., Phyllanthus embelica, Mallotus philippinensis, Mimosa, rubricaulis, Bouhinia sp., Glycomisarborea, Curcuma sp., Clerodendrum viscosum, Elephantopus scaber ইত্যাদি প্রধান।

(ঘ) রাংটিয়া বনাঞ্চল : জামালপুর জেলার শেরপুরের ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। প্রধান উদ্ভিদ শাল এবং সহযোগী উদ্ভিদের মধ্যে Terminalia belerica, Wood fordia malabarica ইত্যাদি। দ্বিতীয় স্তরের উদ্ভিদের মধ্যে Mallotus philippinesis প্রধান।
(ঙ) বরেন্দ্র অঞ্চল : প্রধান উদ্ভিদ শাল ছাড়া Acacia nilotica, খয়ের, লিচু, তামাক, ইক্ষু ইত্যাদি।
(চ) শালবন বিহার : শাল ছাড়া Syzygium cumini, Cassia siamea, Holarrihena antidysenterica ইত্যাদি।

ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল

এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। মূল বন এলাকা হল সুন্দরবন। সুন্দরবনকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়।

(ক) অলবণাক্ত অঞ্চল : এ অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, হারগোজা, Hibiscus tiliaceous, Bruguiera, Cynometra ramiflora Ges Amoora cucullota প্রধান।
(খ) অনধিক লবণাক্ত অঞ্চল : Carapa moleocansis/পস্তর, খাপু, কেওড়া, গোলপাতা, Acanthus প্রধান উদ্ভিদ।
(গ) লবণাক্ত অঞ্চল : গরান, ভেনা প্রধান উদ্ভিদ।

উপরুক্ত উদ্ভিদ ছাড়া আরও কিছু কিছু লতা, গুল্ম, বীরুৎ উদ্ভিদের নাম উল্লেখ করা হল ভিণ্ডি, ঢেঁড়স, মুশকদানা, কারোকস্তরী, উলট কম্বল, রতি, ছানটি, কাইচ, ঝামিন, জয়া, নানিয়া পাট, খয়ের বাবুল, বনরিটা, কুচাই, আইলা, পাতা বাহার, বাজীনল, বচ মায়ানিল, বাওবার, বাসক, বাকস, নুনিয়া গাছ, বিশল্যকরণী, হোগলা, ভাতশোলা, মালতী, মালতী লতা, জলামুট, ফুলকুড়ি, মহানিমা, শিরিষ, করই, চাকুয়া, পিঁয়াজ, লালশাক, কলমি, ওলকচু, কাজু বাদাম, কদম ইত্যাদি।

অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ আজ ধ্বংসের পথে এবং অনেক প্রজাতি বিলীন হয়ে গেছে। উদ্ভিদ যেকোন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যে মোট আয়তনের ২৫% বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের বনভূমির আয়তন মাত্র ১৭% ভাগ।

বনভূমি হতে রেললাইনের স্লিপার, নৌকা, গৃহনির্মাণের সাজ-সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, জ্বালানি ইত্যাদি কাজের জন্য কাঠ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কাগজকলের কাঁচামাল, দিয়াশলাই এর বক্স, রং প্রস্তুতে ব্যবহার হয়ে থাকে উদ্ভিদ। এছাড়া বনভূমি হতে প্রচুর পরিমাণে মধু ও মোম পাওয়া যায়। তাই বিদ্যমান বনভূমির উন্নয়ন এবং নতুন বনভূমি সৃষ্টি করা দরকার।
উদ্ভিদের রোগ বালাই এর জন্য দায়ী কতগুলো প্রাণী ও বালাই মুখ্য হিসেবে কাজ করে থাকে। নিম্নে এগুলোর নাম প্রদত্ত হল পাতাফড়িং, কীটপতঙ্গ, Zeuzera Colfeae, Indarbela tetraonis, Argyroploce illepida, wমলিস্কেলস, জাব পোকা, পাতার উইভিল, Aeolsthes holoserica, লার্ভা, বাড, উইভিল, Monohammus versteegi ইত্যাদি প্রধান।
Fauna (প্রানী)
বাংলাদেশ উপউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে নানা ধরনের বাস্তুসংস্থানিক পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। এখানে দীর্ঘ উপকূল ভাগ, অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, দীঘি, হাওড়, পুকুর বিদ্যমান। কৃষি ও শিল্পের প্রসারণের কারণে বিগত দুই শতকে অনেক এলাকার মৌলিক বৈশিষ্ট্যময় উদ্ভিদের মূল প্রকৃতি এবং বাস্তুসংস্থানিক পরিবেশ বহুলাংশে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে দেশের প্রাণীকূল ও উদ্ভিদের উপর এর বিরূপ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার অভ্যন্তরে এক সময় চমৎকার প্রাণীকূলের সমাবেশ ছিল। এ দেশে প্রজাতির সংখ্যার দিক থেকে Coleoptera প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পরিবার। সাধারণভাবে বিটল ও উইবিল নামে পরিচিত এসব কীটপতঙ্গের প্রায় ৩৫ প্রজাতির গোবুরে পোকা এবং প্রায় ৩০ প্রজাতির পাতাভুক স্ক্যারাব আছে এদেশে। প্রায় ৮০ প্রজাতির উপকারী এবং প্রায় ১৩ প্রজাতির ক্ষতিকর লেডিবার্ড বিটল এর তথ্য পাওয়া যায়। এশিয়া মহাদেশে প্রায় ২৮০ প্রজাতির জোনাকী পোকা জাতীয় বিটল এর কথা জানা গেলেও এদেশে আছে প্রায় ২০ প্রজাতির।
এদেশে যেসব প্রাণী দেখা যায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হল বাঘ, গণ্ডার, মহিষ, গরু, ছাগল, বুনো মহিষ, বনগরু, অ্যান্টিলোপ, বন ছাগল, হাঁস, মুরগী, বনমুরগী, নাকতা হাঁস, ময়ূর, কাঠময়ূর, চিকা, ইঁদুর, House shrew, Common Tree shrew, euv`yo, Fulvous Fruit Bat, Greater Mousetailed Bat, Leaf nosed Bat, Thick cared Bat, Tickell’s Bat, Bangla Barb, Indian Hatchet fish, Reba Carp, Bata Labeo, Black Rohu, Cotio, Olive Barb, Indian Trout, Rita rita, Ompok pobo, clupisoma garua পাঙ্গাশ, মাগুর, কৈ, ইলিশ, শোল, রূপচাঁদা, লাল চান্দা, Tila shol, Tara Baim, ব্যাঙ, পোটকা ব্যাঙ, পোনা ব্যাঙ, গেচু ব্যাঙ, কুমির, গড়িয়াল, কাছিম, Dhum Kasim, Simkasim, Jata Kasim, Rokto chosha, Anjon, Guishap, Phython, reticalate, sabujphoni-monosha, Daraj, Sabju dhora, kal Keotey, গোখরা, Viper shap, UlooBora, katmor, Raj Dhanesh, Lal trogon, কোকিল pencha, হুতুম পেচা, Dinkana, Hot-titi, panikta, গাঙচিল, ঈগল, শুকুন, বক, Hargila, Panga, Lajuk Banor, হনুমান, Liluk, Shial, Pati shial, Dhole, Khek shial, সোনালি বিড়াল, Leopard, Royal Bengal Tiger, Ud Biral, Bhalluk বাগডাসা হাতি, Sambar, সজারু, টিকটিকি, ইত্যাদি। Charadriiiformes বর্গের অন্তর্গত Charadriর উপবর্গের যেসব পাখি পিপি, রঙিলা, চ্যাগা, অয়েস্টার ভোজী, ঢেঙ্গা, সিল্ট, জোয়ালা, জোরালী স্টোন কারলিউ, প্রাটিনকোল, কালশির হট্টিটি, জিরিয়া, চা পাখি, কাঁদাখোচা, বিলাতি চাহা ইত্যাদি প্রধান।
এদেশের মাছি জাতীয় পতঙ্গদের মধ্যে সাধারণ মাছি, স্টেবল মাছি, নীল মাছি, হভার ফ্লাই, ডিয়ার ফ্লাই, হর্সফ্লাই, ফলের মাছি, ব্লোফ্লাই, ক্রেন ফ্লাই ইত্যাদি দেখা যায়। বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকায় এসব মাছি কালাজ্বরের জীবাণু ছড়ায়। আজ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ১৬০০ প্রজাতির মশার কথা জানা যায়। বাংলাদেশে আছে প্রায় ১১৩ প্রজাতির। এছাড়া এদেশে প্রায় ২২টি গোত্রের অধীনে ১৩৪গণ এবং প্রায় ৪০০ প্রজাতির মাকড়সা রয়েছে। স্বাদু ও লবণাক্ত পানির কাঁকড়া, চিংড়ি এবং লবস্টার এদেশে পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২ প্রজাতির King Crab Penulirus Polyphagus এবং Thenus orientalis প্রজাতি বিদ্যমান। Dephnia, Cypris, Copepod প্রজাতির প্রায় ২০টি জুওপ্লাঙ্কটনের অস্তিত্ব এখানে আছে। বাংলাদেশের সমুদ্র থেকে তারামাছ, ডলার, সী আর্চিন এবং সী কিউকাম্বার রেকর্ড করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিশ্বে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে প্রায় ২২,০০০ প্রজাতির মাছ, ৫০০০ প্রজাতির পাখি এবং ৪৫০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর কথা জানা যায়। বাংলাদেশে এসব প্রাণীর প্রায় ১৬০০ প্রজাতি আছে।
বাংলাদেশে প্রায় মোট ৭০৮ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৬৬ প্রজাতি হল স্বাদু ও লোনা পানির এবং বাকী ৪৪২টি প্রজাতির সামুদ্রিক। এখানে প্রায় ২২ প্রজাতির উভচর, অভ্যন্তরীণ প্রাণীদের মধ্যে Anura বর্গের কুনো ব্যাঙ এবং কোলা ব্যাঙ বিদ্যমান। প্রায় ১২৬ প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে ১০৯ প্রজাতি অভ্যন্তরীণ এবং ১৭ প্রজাতি সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর মধ্যে ২টি কুমির, ২২টি কচ্ছপ ও ফাইট্টা, ১৮টি টিকটিকি ও গুইসাপম এবং ৬৭টি সাপের প্রজাতি বিদ্যমান।
বাংলাদেশের কয়েক প্রজাতির প্রজাপতি :
Papilio demoleus, Graphium doson, Pachliota aristolochia, Chilasa Clytia, Appias alythea, Catopsilia, Limentis, Procris, cepora nerissa, Cethosia, Cyane, Loxura atymus প্রধান। প্রাণী জগত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
IUCN- Bangladesh মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেশের প্রায় ৫৪ প্রজাতি অভ্যন্তরীণ মাছ হুমকির সম্মুখীন। ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৫৮ প্রজাতির অভ্যন্তরীণ সরীসৃপ, ৪১ প্রজাতির স্থানীয় পাখি এবং ৪০ প্রজাতির আন্তঃদেশীয় স্তন্যপায়ী নানাভাবে হুমকিগ্রস্ত। এছাড়া আরও যেসব প্রজাতি বিলীনের পথে
সেগুলো হলো- Venpu Bang, cheena Bang. Lat Cheena Bang. Potka bang, Sabuj Bang, Gach Bang, Lonapanir kumir, Ghot Kumir, Baro, Kaitta, Deeba Kasim, Lolo Kasim, Vaittal Kaitta, Tiktiki, Anjon, Gui shap, Sutanoli shap, Uranta shap, Daraj shap, Sabuj Dhora, Kukri, Kal keotey, Jati shop, Naga Gokhra, Padma Gokhra, Viper shap, Bora ulou Bora, Indur, Shujoru, Shashak ইত্যাদি। সংকলনে মহিবুল হাসান।

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.