প্রথম পাতা » সংবাদ

পার্বত্যাঞ্চলে সেনা প্রত্যাহার স্থগিতের নির্দেশ

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার আগামী বুধবার পর্যন্ত স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সেনা প্রত্যাহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা দুটি আবেদনের শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবির পাশাপাশি ওই সময় পর্যন্ত ক্যাম্প প্রত্যাহারের ওপর এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই অঞ্চল থেকে এ ব্রিগেড সেনা এবং বেশ কিছু সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিদের বিরোধিতার মধ্যেই সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া হয়।
সেনা প্রত্যাহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ১৩ আগস্ট এক আইনজীবী এবং পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত এক ব্যক্তি হাইকোর্টে দুটি আবেদন করেন।
রোববার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চে ওই আবেদন দুটি ওঠে।
সরকার পক্ষ শুনানির জন্য সময় চাইলে অপর পক্ষ থেকে সময় বাড়ানো পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।
এর পর আদালত আদেশে বলে, আবেদন দুটির শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। ওই সময় পর্যন্ত চলমান সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার স্থগিত রাখার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
আবেদনকারীদের কৌঁসুলী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন জানায়। আমরা তাতে আপত্তি করিনি। তবে আমরা বলেছি, শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সৈনা প্রত্যাহার বন্ধ রাখা হোক।”
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও বদিউজ্জামানের করা ওই আবেদন দুটিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার হলে সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। বদিউজ্জামানের পক্ষে আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

আবেদনে আরও বলা হয়, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদন, বাস্তবায়ন ও স্বাক্ষরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৭ সালে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ওই বছর ২৭ আগস্ট আদালত এর ওপর রুল জারি করেছিল।
ওই রিট আবেদনটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে জানিয়ে নতুন আবেদনে বলা হয়, এ মুহূর্তে পার্বত্যাঞ্চল থেকে সৈন্য প্রত্যাহার হলে রিট আবেদনটি অকার্যকর হয়ে যাবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২০০০ সালে বদিউজ্জামানের করা আরেকটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির আলোকে করা আইনগুলো কেন অবৈধ নয় তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। সেনা প্রত্যাহার হলে ওই রিটটিও অকার্যকর হয়ে যাবে।
গত ২৯ জুলাই সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির আলোকে সরকারের এ সিদ্ধান্ত।
এ মাসের শুরুতে পার্বত্যাঞ্চল থেকে এক ব্রিগেড সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়ে। কয়েকটি স্থানে ক্যাম্প গুটানোয় বাধা দেয় বাঙালিরা।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি বিরোধী সম অধিকার আন্দোলন এবং পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে রোববার রাঙামাটির লংগদুতে হরতালও হয়।

সূত্র: বিডিনিউজ

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.