প্রথম পাতা » শিক্ষা ও ক্যারিয়ার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম সমাবর্তন

দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নত ও মর্যাদাশীল দেশ গড়ায় তথ্য-প্রযুক্তি ও জীব-প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় পুরোপুরি স¤পৃক্ত হতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. জিল্লুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহৎ এবং ৪৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় খেলার মাঠে ১১টা ৫৩ মিনিটে ৪৫তম সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. জিল্লুর রহমান। ‘সমাবর্তন বক্তা’ নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইউয়ান টি লি বৈশ্বয়িক সমস্যা সমাধানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবর্তনে ৯ হাজার ৫৮ জন অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশিষ্ঠজনসহ ১২ সহস্রাধিক লোক সমাবর্তনে অংশ নেন।

সমাবর্তন : পিছনে ফিরে দেখা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই (২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলের শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর। পাকিস্তান আমলে ১৫ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ এবং শেষবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এরপর ২০০১, ২০০৪, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

এবার সম্মানসূচক ডিগ্রি পেলেন যারা
এবারের সমাবর্তনে বক্তব্য দেন ১৯৮৬ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী ইমেরিটাস অধ্যাপক ইউয়ান টি লি। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। তিনি তাইওয়ানের তাইপের জেনোমিক রিসার্স সেন্টারের ইনস্টিটিউট অব অ্যাটোমিক অ্যান্ড মলিকুলার সায়েন্সের একাডেমিয়া সিনিকার প্রেসিডেন্ট। এছাড়া সমাবর্তনে আরও দুজন বিশ্বখ্যাত অধ্যাপককে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক ছাত্র অধ্যাপক আবুল হুস্সামকে ‘সনো ফিল্টার’ উদ্ভাবনের জন্য সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স এবং ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চার নতুন ধারার প্রবর্তক অধ্যাপক রণজিৎ গুহকে ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

এ পর্যন্ত ডিগ্রি পেলেন যারা : ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ৮৮ বছরে ৪৫টি নিয়মিত এবং বিশেষ সমাবর্তনে ৪৩ ব্যাক্তিকে তাদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে ২১ জনকে ডক্টর অব লজ, ১২ জনকে ডক্টর অব সায়েন্স এবং ১০ জনকে ডক্টর অব লিটারেচার প্রদান করা হয়।

* ডক্টর অব লিটারেচার পেলেন যারা : মহামহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯২৭), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্যার মোহাম্মদ ইকবাল, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্যার যদুনাথ সরকার (১৯৩৬), মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী নজরুল ইসলাম, উস্তাদ আলী আকবর খাঁন এবং আবুল ফজল (১৯৭৪) এবং রণজিৎ গুহ (২০০৯)।

* ডক্টর অব সায়েন্স পেলেন যারা : স্যার চন্দ্র শেখর ভেংকট রমন (১৯৩২), স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এবং স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (১৯৩৬), সত্যেন্দ্র নাথ বোস, হীরালাল দে, মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা এবং কাজী মোতাহার হোসেইন (১৯৭৪), আব্দুস সালাম (১৯৯৩), ফেডেরিকো মেয়র (১৯৯৭), নোবেল বিজয়ী অমার্ত্য সেন (১৯৯৯) এবং নোবেল বিজয়ী ইউয়ান টি লি এবং আবুল হুস্সাম (২০০৯)।

* ডক্টর অব লজ পেলেন যারা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর রোনাল্ডশে জিসিআই (১৯২২), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর স্যার ফিলিপ জোসেপ হার্টস (১৯২৫), লর্ড লিটন (১৯২৭), স্যার ফ্রাঙ্কিস স্ট্যানলি জ্যাকসন (১৯৩২), স্যার জন অ্যান্ডারসন এবং স্যার আব্দুর রহিম (১৯৩৬), স্যার এ.এফ. রহমান (১৯৩৭), খাঁজা নাজিমুদ্দীন (১৯৪৯), স্যার মোহাম্মদ শাহ আগা খাঁন (১৯৫১), আব্দুল ওয়াহাব আযম (১৯৫২), এ.কে.ফজলুল হক, সাং চিং লিং, চু ইন লি এবং মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা (১৯৫৬), ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খাঁন এবং জামাল আব্দুল নাসের (১৯৬০), শেখ হাসিনা (১৯৯৯), মাহাথির বিন মোহাম্মদ (২০০৪), মুহাম্মদ ইউনুস (২০০৭), এবং ভাষা সৈনিক আ ন ম গাজীউল হক ও আব্দুল মতিন (২০০৮)।
উল্লেখ্য : পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয় ১৪৭০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিওনেল উডবিলিকে।

৩৫ মেধাবীকে ৪৬টি স্বর্ণপ্রদক প্রদান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ৪৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৩৫ মেধাবী ছাত্রকে ৪৬টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এককভাবে ৪টি স্বর্ণপদক লাভ করেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা ইয়াসমিন শোভা। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিম আফরোজ লাভ করেন ৩টি স্বর্ণপদক। কাজী শোহাইবুর রহমান, মীর নাহিদ মাহমুদ, সায়েইদা নুজহাত-ই-ইবরাত ও রনি হাসিনুর রহমান ২টি করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

* কলা অনুষদ থেকে ১২ জন মেধাবীকে দেওয়া হয় ১৭টি স্বর্ণপদক। * বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছেন ৩ জন। * আইন অনুষদ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ১ জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। * সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৯ জন পেয়েছেন ১২টি স্বর্ণপদক। * জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে পেয়েছেন ২জন। * ফার্মেসি অনুষদ ও চিকিৎসা অনুষদ থেকে ১ জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। * প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে পেয়েছেন ২ জন। * পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ২ জন স্বর্ণপদক লাভ করেন।

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.