প্রথম পাতা » Headline

ঘটনাপ্রবাহ ২০০৯

ঘটনাপ্রবাহ ২০০৯ঘটনাবহুল আরেকটি বছর ২০০৯ চলে গেল। দেশের আঙ্গিনায় মহাজোট সরকারের ক্ষমতায় আসা, পিলখানা ট্রাজেজি, ডে-লাইট সেভিং ধারনার প্রবর্তন এসব ঘটনার পাশাপাশি ছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুর ছড়াছড়ি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ছিল কৃঞ্চাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমেরিকার ক্ষমতায় আরোহন। এছাড়াও মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু, জলবায়ু নিয়ে বিশ্বজনমত, এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি ওবামার ভাষন এসব বিষয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এসব ঘটনার সমাহার আমাদের এই সালতামামি রচনা। এই রচনায় ২০০৯ এর গুরুত্বপূর্ন ঘটনাগুলোকে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের আলোচনার পরিধি।

পিলখানা ট্রাজেডি
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে সেনা অফিসারদের নির্বিচারে হত্যা, জখম, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়। পিলখানার এ নৃশংস ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা, একজন সৈনিক, ৭ জন বেসামরিক লোক ও ৮ জন বিডিআর জওয়ান। এটি একটি পরিকল্পিত রক্তপাত বা হত্যাকাণ্ড। বিডিআর বিদ্রোহের পর এর মনোগ্রাম ও পোশাক পরিবর্তন করা হয় এবং নাম পরিবর্তন এবং বিডিআর পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তন
দিনের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ১৯ জুন ২০০৯ এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয় ঘড়ির কাঁটা। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে আনা হলেও ধর্মীয় বিষয়াদি ছাড়া সবকিছু আগের নিয়মে চলবে। এর ফলে গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) +৬ এর পরিবর্তে বাংলাদেশ সময় এখন জিএমটি +৭। সেপ্টেম্বরের পর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে যুক্তরাজ্য সর্বপ্রথম ডেলাইট সেভিং টাইম পদ্ধতি চালু করে। বর্তমানে বিশ্বে ৭৮টি দেশে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে এ পদ্ধতি চালু আছে এবং চালু নেই ১২৯টি দেশে।

মহাজোট সরকারের শপথ
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসন পেয়ে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ত্রয়োদশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ জানুয়ারি ২০০৯ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ঐ দিন প্রধানমন্ত্রী, ২৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৮ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার আকার আরো বৃদ্ধি করে ৪৩ জন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় বিচারকার্যক্রম। এজাহার দায়ের করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রিসিপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আদম মোহিতুল ইসলাম। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রাসুল ১৯ জন আসামির ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ দ্বিধাবিভক্ত রায় তৃতীয় বিচারপতি মোঃ ফজলুল করিমের বেঞ্চে গেলে তিনি ৩০ এপ্রিল ২০০১ তার রায়ে ১২ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ৩ জনকে খালাস দেন। ৪ঠা অক্টোবর ২০০৯ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতিকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। এ বেঞ্চ টানা ২৯ কার্যদিবস শুনানির পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ ১২ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯
ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের আলোকে ২০০০ সালে প্রণীত ড. শামসুল হক শিক্ষানীতিকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে প্রধান করে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় ৮ এপ্রিল ২০০৯। পরবর্তীতে আরো ২ জনকে কমিটিতে নেয়া হয়। ১০ জুলাই ২০০৯ জাতীয় শিক্ষানীতির প্রাথমিক খসড়া প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়।

এশিয়ান হাইওয়ে ও বাংলাদেশ
১৫ জুন ২০০৯ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে বাংলাদেশের এশিয়ান হাইয়েতে যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইউএন এসকাপ ১৯৫৯ সালে এশিয়ান হাইওয়ে কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৩ সালের নভেম্বর মাসে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইন্টারগভর্নমেন্টাল অ্যাগ্রিমেন্ট দি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়। চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০০৫ সালের ৪ জুলাই থেকে। ESCAPএর মূল প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম এশিয়ার তুরস্কের আঙ্কারা থেকে শুরু করে ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের কাবুল, পাকিস্তানের লাহোর ও শেরশাহের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড হয়ে ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের আকিয়াব ও রাজধানী ইয়াঙ্গুন হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে জাপান হয়ে কোরিয়াসহ দূরপ্রাচ্যের গোড়া পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের (এএইচ -১) (এএইচ-২) ও (এএইচ-৪১) এই তিনিটি রুট রয়েছে। ঊংপধঢ়-এর সর্বশেষ ওয়েবসাইটে (এএইচ-৪১) এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাই (এএইচ-১) বা (এএইচ-২) যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভেতর ভারতের করিডোর ব্যবস্থা হতে পারে যার কারণে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হচ্ছে।

শতাব্দীর সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণঃ
আগমী ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থায়ী সূর্যগ্রহণ হয় ২২ জুলাই ২০০৯। বাংলাদেশে এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব হয় প্রায় ৪ মিনিট। দেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়ের মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল মধ্যরেখা। বাংলাদেশ থেকে ১০৫ বছরের মধ্যে আর কোনো পূর্ণগ্রাস সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে না। বিরল এই সূর্যগ্রহণ বুধবার ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে শুরু হয় ভারতে। নেপাল, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভুটান ও চীন পাড়ি দিয়ে তা শেষ হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে। অন্যবারের তুলনায় এবার সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে বেশি (৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড) স্থায়ী হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কেন্দ্র নাসা। ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশের শেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

টিপাইমুখ বাঁধ
ভারত বরাক নদীর উজানে অববাহিকা অঞ্চলটিতে উন্নতির জন্য শক্তির সরবরাহ এবং কৃষির বিকাশের জন্য সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টিপাইমুখে বরাক নদীর ওপর ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাবটি সেই ১৯৫৫ সালের দিকে। নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তাবটি আসে ১৯৯৩ সালের দিকে। কিন্তু ভারতের কিছু অঞ্চলসহ বাংলাদেশের নদীপ্রবাহের ওপর বিরূপ প্রভাবের কথা আলোচিত হওয়ায় প্রস্তাবটির গতি কিছুটা স্তিমিত হয়। বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল কিছুদিন আগে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। বাঁধের প্রভাব ঃ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কোনো দেশ অভিন্ন নদীর উজানে কোনো কাঠামো নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই এর ভাটিতে বসবাসকারী জনপদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে বাধ্য। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করেছেন, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার ২৭৫.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়সহ এই অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা অর্থনীতি, প্রাণী বৈচিত্র্যসহ সবকিছুর ওপর তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি কুফল দেখা দেবে। মৎস্য প্রজননে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মরুভূমি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কিছু অঞ্চলেরও ক্ষতি হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মনিপুর রাজ্যে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক সভা, সেমিনার, লংমার্চ, নৌমার্চ, প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকার পুনরায় প্রত্যাবর্তন করছে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আওতায় দেশে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১২-২০১৬ সাল। শুধু এর সাথে প্রণয়ন করা হবে একটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদকাল হবে ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল।

স্বপ্ন পূরণের ঘাটতি বাজেট (২০০৯-২০১০)
এ বছরের ১১ জুন মহাজোট সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেট। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ এবং রেকর্ড সৃষ্টিকারী বিজয় অর্জনের ফলে মহাজোট সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। স্বাধীনতার পর এটি হচ্ছে দেশের ৩৮তম বাজেট। শিক্ষা, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতি প্রাধান্য পেয়েছে এবারের বাজেটে। জাতীয় উন্নয়নে বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব)। টাকার অঙ্কেও এবারের বাজেট ছিল রেকর্ড সৃষ্টিকারী, যার পরিমাণ ছিল ১১৩,৮১৯ কোটি টাকা। সমালোচকদের মধ্যে এটি ছিল মহাজোট সরকারের উচ্চাবিলাষী স্বপ্ন পূরণের জন্য ঘাটতি বাজেট।

ইসলামী ব্যাংকিং শরিয়াহ অডিট নীতিমালা চালু

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী চলেছে কি-না তা নিরীক্ষার জন্য ২৬ বছর পর ‘শরিয়াহ অডিট নীতিমালা’ তৈরি করেছে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডস ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১৯৮৩ সাল থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করলেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য দেশে এতদিন কোন নিরীক্ষা নীতিমালা ছিল না। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিংয়ের শতকরা ২৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ বোর্ড মিটিংয়ের পর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের এই নীতিমালা দেয়া হয়।

বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ
২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন হ্রাস এবং খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি আকস্মিক সমস্যায় পড়ে। পাশাপাশি আমেরিকার সাব-প্রাইম বন্ধক পদ্ধতির পরিপ্রেক্ষিতে আবাসন খাতে বিপুল ঞড়ীরপ পৎবফরঃ বিতরণজনিত জটিলতায় আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়ে। সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব সম্পর্কে যথাযথ আগাম ধারণা অর্জন এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণকল্পে ১৯ এপ্রিল ২০০৯ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এপ্রিল-জুন সময়ের জন্য ৩৪২৪ কোটি টাকার রাজস্ব প্রণোদনা দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।

মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে দু’টি কেবল বিদেশে থেকে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (অপারেটর সার্ভিস) বাংলালিংয়ের বিক্রয় কেন্দ্রগুলো (আউটলেট ব্যবহার করে)। এ দু’টি ব্যাংক হলো ইস্টার্ন ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘দি ট্রাস্ট ব্যাংক’।

আলোচিত দশ আন্তর্জাতিক ঘটনা ২০০৯

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০০৯ ছিল পরিবর্তনের বছর, বারাক ওবামার সরকার গঠন থেকে শুরু করে জাপানেও দীর্ঘ এলডিপি শাসনের অবসান ঘটে। ইরান ও ভারতে নির্বাচন, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন ছিল আলোচিত। কারেন্ট ইস্যুর দৃষ্টিতে দশ আলোচিত আন্তর্জাতিক ঘটনা হলো:

শ্রীলঙ্কায় এলটিটিই যুগের অবসান
১৮ মে এলটিটিই প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। তামিল জাতিগোষ্ঠীর পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে সংগ্রামরত এ গেরিলা বাহিনী ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। বিশ্বে আত্মঘাতী হামলার জনক বলা হয় এলটিটিইকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী প্রেমাদাসা হত্যাকাণ্ডের সাথে এরা যুক্ত ছিল।

আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামার সরকার গঠন
প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেইন ওবামা ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। ওবামা প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হন জো বাইডেন। হিলারি ক্লিনটনকে প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন ওবামা। পরিবর্তনের শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করলেও এ বছরে কোন মৌলিক পরিবর্তন ওবামা আনতে পারেননি।

পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু

পপগানের জীবন্ত কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন ২৬ জুন হঠাৎ করে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী শোকের ছায়া নেমে আসে। এলভিস প্রিসলি, বিটলসের পরে তিনিই ছিলেন পপগানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট। তার মৃত্যুকে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড বলা হয়েছে। উদ্দাম নৃত্য ও ঘটনাবহুল জীবনযাপনের জন্য তিনি আলোচিত ছিলেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। ৪ সেপ্টেম্বর লসএঞ্জেলেসের ফরেস্ট লন মেমোরিয়াল পার্কে তাকে সমাহিত করা হয়।

বিশ্বব্যাপি সোয়ইন ফ্লু আতংক
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের নাম ছিল ‘সোয়াইন ফ্লু’ ভাইরাস। শূকরের শরীর থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সর্ব প্রথম মেক্সিকোতে এ ভাইরাস ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সারাবিশ্বে দ্রুতগতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় প্রায় ৩ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ রোগের ভাইরাসকে এইচএন বলে চিহ্নিত করেছে।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
৭ ডিসেম্বর থেকে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে শুরু হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন বিশ্বে নতুন উত্তাপ ছড়ায়। এতে প্রায় শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা থেকে বিশ্ববাসীকে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, দরিদ্র ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, তা এ সম্মেলনের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রধান দাবি পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণের হার কমানো এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা
ফিলিস্তিনের গাজাবাসী ২০০৯ সাল শুরু করে ইসরাইলি বোমা বর্ষণের মধ্য দিয়ে। ২৭ ডিসেম্বর ’০৮ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বোমা বর্ষণ চলে ১৭ জানুয়ারি ’০৯ পর্যন্ত। এতে নিহত হন প্রায় এক হাজার তিনশত মানুষ। পঙ্গু হন হাজার হাজার লোক। পুরো গাজাজুড়ে নেমে আসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। সারা বিশ্ব এ হামলার নিন্দা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেয়।

ভারতে কংগ্রেসের সরকার গঠন
টানা দ্বিতীয়বারের মত ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি’র চরম ভরাডুবি হয়। ড. মনমোহন সিং দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে নতুন চমক নিয়ে আসেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী হন।

ইরানে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছিল এ বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর এবারই প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় আকারের সহিংসতা হয়। নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ৬৪.৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরাজিত প্রার্থী মুসাভি ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন। এতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক লোক নিহত হন। শেষ পর্যন্ত প্রধান ধর্মীয় নেতৃত্ব ইমাম খোমেনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

৫৪ বছর পর জাপানে ক্ষমতার পরিবর্তন
৩০ আগস্ট জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ৩০৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জপাপান (ডিপিজে)। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল এলডিপি’র ৫৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ৬২ বছর বয়স্ক ডিপিজে নেতা ইউকিয়ো হাতোয়ামা নতুন প্রধানমন্ত্রী হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং বিশ্বমন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এ সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে ওবামার ভাষণ
১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ টুইন টাওয়ারে হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন হামলা মুসলিম বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপড়েনের সম্পর্ক তৈরি হয়। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৪ জুন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। আসসালামু আলাইকমু বলে তিনি বক্তব্য শুরু করেন এবং কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দেন। তিনি আমেরিকার ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান তুলে ধরেন। বারাক ওবামা ২০১২ সালের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

আলোচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব

বারাক ওবামা
প্রথম আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট যিনি ২০ জানুয়ারি ২০০৯ শপথ নেন। ২০০৯ সালে ফর্বেস ম্যাগাজিনের জরিপে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরিবর্তনের স্লোগান দিয়ে তিনি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তা ছাড়া মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তিনি আমেরিকার স্বাস্থ্যনীতি এবং আফগানিস্তানে নতুন সেনা প্রেরণের কারণে আমেরিকাও সারা বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন। ২০০৯ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ক্ষমতাসীন হিসেবে ৩য় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অষ্টম আফ্রিকান এবং আফ্রো-আমেরিকান।

মাহমুদ আহমাদিনেজাদ
১২ জুন ২০০৯ অনুষ্ঠিত ইরানের দশম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ৬৪.৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সর্বশেষ ইরানি প্রধানমন্ত্রী মীর হোসাইন মুসাভি পেয়েছেন ৩২.২৫ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর পরাজিত প্রার্থী মুসাভি ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন। রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ঘটে। এত মার্কিন ইহুদি সিন্ডিকেট মিডিয়া জোট মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডায় মুখর হয়ে ওঠে। পশ্চিমা মিডিয়া মুসাভির বিক্ষোভ যতটা ফলাও করে প্রচার করে আহমাদিনেজাদের লাখো জনতার জনসভাকে ততটাই আড়াল করেছে। মুসাভির ভোট পুনঃগণনার দাবি ইরানি অভিভাবক কাউন্সিল নাকচ করে দেয়। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে অভিনন্দন জানান। চীন, রাশিয়া ও আরো বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানায়।

ড. মনমোহন সিং
সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিত্র)। ২২ মে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং শপথ নেন। জওহর লাল নেহরু পর মনমোহন সিং দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।

মাইকেল জ্যাকসন
সঙ্গীত জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন ২৫ জুন ২০০৯ (বাংলাদেশ তারিখ ২৬ জুন) লসএঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন। মাইকেল জ্যাকসন তার সঙ্গীতজীবন শুরু করেন ১৯৭২ সালে এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত তার ৯টি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। তার সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম ছিল ১৯৮২ সালে প্রকাশিত থ্রিলার। গানের জগতে সর্বোচ্চ পুরস্কার অ্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ১৩টি। মাইকেল জ্যাকসন ২৯ আগস্ট ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গেরিতে জন্মগ্রহণ করেন।

ভিলুপিল্লাই প্রভাকরণ
শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী ও তামিল গেরিলাদের মাঝে ২৬ বছরের চলমান যুদ্ধের দৃশ্যত অবসান ঘটলো ১৮ মে ২০০৯। ১৭ মে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র নির্মূল অভিযান রুখতে না পেরে পরাজয় স্বীকার করে নেয় বিশ্বের সর্বাধুনিক গেরিলা সংগঠন লিবারেশন টাইগারস অব তামিল এলম (এলটিটিই)। ২৬ বছরব্যাপী বিদ্রোহে জড়িত তামিল গেরিলা সংগঠন এলটিটিই’র নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ সেনাবাহিনীর আক্রমণে ১৮ মে ২০০৯ নিহত হন। ১৪ মে প্রভাকরণের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। ভিলুপিল্লাই প্রভাকরণ ২৬ নভেম্বর ১৯৫৪ সালে শ্রীলঙ্কার ভেলুভেত্তি থুরাই এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

মুনতাজের আল জাইদি
১৪ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে ইরাকে বিদায়ী সফরে এলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে জুতা নিক্ষেপ করেন ইরাকি টেলিভিশন চ্যানেল আল বাগদাদিয়া টিভি’র সাংবাদিক মুনতাজের আল জাইদি। বিশ্বে বীরের মর্যাদা পাওয়া ৩০ বছর বয়সী এ সাংবাদিককে বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে অবমাননা করার অপরাধে ১২ মার্চ ২০০৯ ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় বাগদাদের এক আদালত। বাগদাদ কারাগারে নয় মাসের দণ্ড ভোগের পর ১৫ সেপ্টেম্বর ’০৯ কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

অং সাং সুচি
গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় সরকারের বিনা অনুমতিতে এক ব্যক্তির সাথে দেখা সাক্ষাতের অভিযোগে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ও নোবেল বিজয়ী অং সান সূচিকে গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ১৯ বছর ধরে গৃহবন্দী রয়েছেন। ইয়াঙ্গুনের একটি হ্রদের পাড়ে সুচির বাড়ি। সেখানে তিনি তার দুই পরিচালককে নিয়ে গৃহবন্দী জীবনযাপন করেন। কিন্তু জন ইয়েত্ত নামের এক মার্কিন ট্যুরিস্ট হ্রদ সাঁতরে সুচির বাড়িতে গিয়ে দু’দিন ধরে সেখানে অবস্থান করেন। এই অভিযোগে ১৪ মে ২০০৯ তাকে গ্রেফতার করে ইয়াঙ্গুনের ইনলিয়ন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ মে সুচির এ আটক মামলার শুনানি শুরু হয়। ১১ আগস্ট ইনসেইন কারাগারে বিশেষ সামরিক আদালতে প্রহসনমূলক বিচারে তার গৃহবন্দীর মেয়াদ আরো ১৮ মাস বৃদ্ধি করা হয়। প্রথমে তাকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিলেও পরে তা কমিয়ে ১৮ মাস করা হয়। জান্তাবিরোধী গ্রুপগুলো বলছে, সুচিকে ২০১০ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ প্রহসনমূলক বিচার করা হয়েছে। গত ২০ বছরের মধ্যে ১৪ বছরই সুচি গৃহবন্দী ছিলেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করেই সরকার তাকে আটকে রেখেছে।

মীরা কুমার
ভারতের কংগ্রেসদলীয় দলিত প্রার্থী মীরা কুমার ৩রা জুন সে দেশের ১৫তম লোকসভার স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি পার্লামেন্টের অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার ও ১৫তম স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন ভারতের প্রথম নারী স্পিকার মীরা কুমার বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণকারী ৬৪ বছর বয়সী এই নারী। সাবেক কূনীতিবিদ মীরা কুমার ১৯৮৫ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ভারতের সাবেক দলিত নেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী বাবু জনজীবন রামের মেয়ে। তার ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি মনোনীত ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী নেতা বাকরিয়া মুভা।

ফিরে দেখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ২০০৯

বিশ্ব মন্দা থেকে উত্তরণের পথে শীর্ষ অর্থনীতির দেশসমূহ
২০০৮ সালকে মন্দার বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ২০০৯ অর্থবছরে বিশ্বের অধিকাংশ শীর্ষ দেশসমূহ প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসার (ঘোষণা প্রদান করে। মন্দা আক্রান্ত বৃহৎ অর্থনীতির ৫টি দেশের ৪টি দেশই মন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের কালো তালিকা
১২ জুন ২০০৯ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাণিজ্যের কালো তালিকা থেকে কম্বোডিয়া ও লাওসকে বাদ দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শত্রুপক্ষ এ দু’টি দেশে যেসব কোম্পানি ব্যবসা করছে তাদের পক্ষে মার্কিন ঋণ পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

বিশ্বের সেরা ধনী
১১ মার্চ ফর বেস ম্যাগাজিন ২০০৯ সালের শীর্ষ ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বিশ্বের ধনীদের এ তালিকা থেকে ঝরে গেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাম। অর্থনৈতিক মন্দা দশার কারণে ২০০৮ সালে সব মিলিয়ে ধনীদের ২ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ উধাও হয়ে গেছে। নতুন হিসাবে ফেরা ধনী মাইক্রোসফটের মালিক বিলগেটস।

ক্ষুধার্ত লোকের সংখ্যা বিশ্বে একশ কোটির বেশি
গত বছর জাতিসংঘের বার্ষিক খাদ্যনিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বে ক্ষুধার্ত লোকের সংখ্যা এখন একশ কোটির বেশি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এর মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিজ্ঞানঃ

বাংলাদেশ

টিকুরিয়াঃ দেশের প্রথম বায়োগ্যাস ভিলেজ
২৯ মে ২০০৯ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার টিকুরিয়া গ্রামকে দেশের প্রথম বায়োগ্যাস ভিলেজ ঘোষণা করা হয়। ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিঃ এর সহায়তায় টিকুরিয়া গ্রামে ৫৭টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়। এ গ্রামের ৫৭ পরিবার এখন বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছেন। গৃহস্থালির বর্জ্য, গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকে উৎপাদিত শক্তি হচ্ছে বায়োগ্যাস। এটি পরিবেশবন্ধন ও সাশ্রয়ী। মাত্র ২৫ হাজার টাকায় তৈরি একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের জীবনকাল ৩০ বছর।

রাস্তায় গাড়ি চললেই বিদ্যুৎঃ ওয়াহিদুজ্জামানের উদ্ভাবিত ওয়াহিদ পাওয়ার এনার্জি-৪ নামক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো জ্বালানি খরচ ছাড়া রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এক হাজার কিলোওয়াট বা এক মেগাওয়াটের প্রতিটি পাওয়ার প্লান্টের দৈর্ঘ্য হবে ৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ মিটার। প্রতি এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্টে হারমোনিয়ামের মতো ৫০টি পাওয়ার বাটন থাকবে। এর ওপর দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় প্রতিটি বাটনেই চাপ লাগবে এবং বিদ্যুৎ তৈরি হবে।

পাথরকুচি থেকে বিদ্যুৎ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সোলার এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের মূল গবেষক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. কামরুল আলম খান পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেন। এক এক একরে পাথরকুচি চাষ করে তা দিয়ে মাত্র এক কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা যাবে বিদ্যুৎ প্লান্ট। ৫০ থেকে ৬০ বছর স্থায়ী এ প্লান্ট থেকে বছরে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ১৪৪ কোটি টাকার। এ বিস্ময়কর উদ্ভাবন কাজে লাগতে পারলে দেশে বিদ্যুতের আর কোনো সঙ্কট থাকবে না।

স্বয়ংক্রিয় সোলার ট্রাকিং সিস্টেম ঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী এমন একটি সৌরকোষ তৈরি করেন যা সাধারণ সৌরকোষের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। দেশে ব্যবহৃত সৌর কোষগুলো নির্দিষ্ট দিকমুখী হওয়ায় সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে তার উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু তাদের তৈরি সৌরকোষটি সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূর্যের দিকে ঘুরবে। ফলে দিনের সবসময়ই এর উৎপাদন অনেক বেশি থাকবে।

বিডি বায়োমেট্রিক ভোটিং সিস্টেম : সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন ভোটিং সফটওয়ার বিডি বায়োমেট্রিক ভোটিং সিস্টেম এর ফলে থাকবে না জাল ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ। পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধনও করা যাবে এ সফটওয়ারের মাধ্যমে। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ভোটার নিবন্ধন ও অ্যানালগ ভোটিং সিস্টেমে যে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে আসছে তা অচিরেই নিরসন হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানীরা।

আন্তর্জাতিক

ডুবন্ত উড়োজাহাজ ‘সুপার ফ্যালকন’ : ব্রিটিশ উদ্ভাবক গ্রাহাম হকস উচ্চপ্রযুক্তির এমন এক পাখাবিশিষ্ট জলযান তৈরি করেছেন, যা পানির নিচে উড়োজাহাজের মতোই চলাচল করতে পারে। জলযান থান্ডারবার্ড ফোরের অনুকরণে তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের এ জালযানটির নাম সুপার ফ্যালকন সাবমারজিবল। এটি আধাডুবন্ত অবস্থায় চালককে যেমন পানির ওপর ভাসিয়ে রেখে চলতে পারে, তেমনি পানির এক হাজার ৫০০ ফুট নিচ দিয়েও ঘণ্টায় প্রায় সাত মাইল বেগে ছুটতে পারে।

চাঁদে পানির খোঁজে : জুন ২০০৯ সালে ফ্লোরিজ থেকে চাঁদে পানির খোঁজে দুটো মহাকাশযান পাঠিয়েছিল নাসা। পরপর ৪ মিনিটের ব্যবধানে মহাকাশযান দু’টি বুলেটের দ্বিগুণ গতিতে চাঁদে আছড়ে পড়ে। দ্বিতীয় মহাকাশযানে স্থাপিত ক্যামেরা প্রথম বিস্ফোরণের চিত্র সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পাঠায়। এ ছাড়া হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপ দিয়েও বিস্ফোরণের চিত্র ধারণ করা হয়েছে। এসব তথ্য উপাত্তের বিশ্লেষণে জানা যাবে সেখানে পানির অস্তিত্ব আছে কি না।

প্রথম একক অণুর চেহারা : বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবারের মতো একটি একক অণুর ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে কার্বন ন্যানোটিউবের আউটলাইন প্রকাশ করা সম্ভব হলেও এই প্রথমবার ছবিতে পরমাণুগুলোর পারস্পরিক বন্ধন এর আলোকচিত্র দেখা সম্ভব হলো। এতে নিবিড়ভাবে আণবিক গঠন জানার বিষয়টি নানাভাবে গবেষণায় সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞানীরা বলেন। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস এবং ওষুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করবে।

ভাইরাস থেকে ব্যাটারিঃ এবার ভাইরাস ব্যবহার করে ব্যাটারি উদ্ভাবন করলো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এর গবেষকরা। মানবদেহের জন্য নিরাপদ এম থার্টিন নামের একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে গবেষকরা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক প্রান্ত উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। নতুন উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে শুরু করে গাড়ির ব্যাটারি পর্যন্ত নির্মাণ সম্ভব।

3 টি মন্তব্য »

  • Roushan Zadeed বলেছেনঃ

    ফিরে দেখলাম ২০০৯। সবই জানাই ছিল কিন্তু মনে ছিল না। এক এক সব যখন মনে হচ্ছিল ভালোই লাগছিল। তাই কারেন্ট ইস্যুর কাছে কৃতজ্ঞ না হয়ে পারলাম না। ধন্যবাদ কারেন্ট ইস্যু!!!!!!!

  • Haque বলেছেনঃ

    বেশ ভালো লাগলো। কিন্তু নিয়মিত আপডেট হলে আরো ভালো লাগতো।

  • বক্র বাবু বলেছেনঃ

    ভাল লাগল…

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.