প্রথম পাতা » ক্যারিয়ার

আইসিটিতে ক্যারিয়ার

তথ্য-প্রযুক্তির যুগ বর্তমান বিশ্ব। তথ্য-প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ সাধনে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়। গ্লোবাল ভিলেজ, গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বমানের যে তোড়জোড় সেটার অবদান একমাত্র তথ্য-প্রযুক্তির। এ তথ্য- প্রযুক্তি বর্তমানে ক্যারিয়ারের একটি বড় ক্ষেত্রও বটে। তথ্য-প্রযুক্তির প্রধান উপকরণটি বলা চলে কম্পিউটার। এ কম্পিউটারে যে কত শত কাজ আছে তা কল্পনাতীত। কম্পিউটারের শুরুর প্রথম কাজটি টাইপিং বা কম্পোজিং। এ সাধারণ কাজটি দিয়েই আজ মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আর অন্যান্য কাজের অবস্থাতো বোঝাই যায়। আইসিটি নির্ভর বর্তমান পৃথিবী। আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি তার মূল হলো আইসিটি। আইসিটি বা তথ্য-প্রযুক্তিতে বর্তমানে রয়েছে চমৎকার ক্যারিয়ার।

আইসিটি:
আইসিটি (ICT) মূলত তিনটি বর্ণের সমষ্টি। প্রত্যেকটি বর্ণের রয়েছে নিজস্ব বিশ্লেষণ। যেমন

I-তে Information-অর্থাৎ তথ্য।
C-তে Communication অর্থাৎ যোগাযোগ।
এবং T-তে Technology অর্থাৎ প্রযুক্তি।

Information, Communication and technology বা তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগের একটি বিশাল ক্ষেত্র। এর আওতা এবং ব্যাপকতাও অনেক। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, কল সেন্টার প্রভৃতি সবই এর অন্তর্ভুক্ত। তাই আইসিটির ক্যারিয়ার আলোচনায় এগুলোর আলোচনা আসবে। তবে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি ইন্টারনেট আর কম্পিউটারভিত্তিক ক্যারিয়ারকে।

নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার :
কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে নেটওয়ার্কিং পদ্ধতিতে সমস্যাহীনভাবে যোগাযোগ রক্ষা করতে নিয়মিত তৎপর থাকে একজন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে আইএসপি তথা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলোতে। এছাড়া কাজের সুযোগ রয়েছে মোবাইল কোম্পানি, ব্যাংক, এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সি, শেয়ার মার্কেট, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, বায়িং হাউজ ইত্যাদিতে। এছাড়াও চাকরির সুযোগ রয়েছে যে কোনো ধরনের অফিস যেখানে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়।

যোগ্যতা :
কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীরা সহজেই নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে অন্যান্য ডিগ্রিধারীরাও অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা করে কিংবা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিষয়ে ১ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে আইটি প্রতিষ্ঠান, ডটকম আইটি বাংলা, সিসকো ভ্যালি, বেইজ, জেনুইটি, নিউরাইজন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

আয় :
একজন সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার বা নেটওয়ার্ক সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এ পেশায় আপনিও আপনার কাজ শুরু করতে পারেন। প্রাথমিক বেতন ৮-১০ হাজার টাকা হলেও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সাথে সাথে এর পরিমাণ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পিএইচপি প্রোগ্রামার :
পিএইচপি হলো একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট টুল এবং সেই সঙ্গে একটি হাইপার টেক্সট মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ। যার মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড কাস স্ট্যান্ডার্ডের ওয়েবসাইট, ই-কমার্স, সোস্যাল নেটওয়ার্ক সাইট, নিউজ পেপার সাইট ইত্যাদি খুব সহজে আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করা যায়। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক ওয়েব সার্ভিস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ওয়েবসাইটের কাজ করা হয়। বর্তমানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণে এবং অল্প সময়ে কাস্টমারদের খুব কাছাকাছি আসার জন্য ওয়েবসাইট প্রকাশে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এভাবে ওয়েবসাইটের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলছে।

যোগ্যতা ও আয় :
পিএইচপি জানা থাকলেই এখানে কাজ করা যায়। প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পিএইচপি প্রোগ্রামার হওয়া যায়। তাবে কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রীধারীরা এখানে ভালো করতে পারে।

প্রাথমিকভাবে একজন পিএইচপি প্রোগ্রামার ১০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যত ইচ্ছা কাজ করা যায়। তবে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকলে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর :
অনলাইন ও সরাসরি দু’ভাবে ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সংরক্ষণ করে রাখাই ডাটা এন্ট্রির মূল কাজ। ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটারের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে। ফলে শুধু দেশের ভেতরেই নয় দেশের বাইরের কাজও করা সম্ভব। দলগতভাবে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিংবা একাকীও এ কাজ করা যায়। ডাটা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এখানে টাইপিং হতে পারে, কোন ফর্দ লেখা হতে পারে কিংবা পাজল ওয়ার্ড পূরণ করা।

যোগ্যতা ও আয় :
কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেই ডাটা এন্ট্রির কাজ করা যায়। তবে এ কাজে প্রধানত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং এক্সেল জানা থাকতে হয়। দ্রুত কাজ করার যোগ্যতাই এখানে প্রধান। ডাটা এন্ট্রির কাজ সহজই বলা চলে। তবে এখানে কাজের উপর আয় নির্ভর করে। আপনি যতবেশি কাজ করতে পারবেন আপনার আয়ও ততবেশি হবে। এক্ষেত্রে সহজেই ৮-১০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। বাইরের কাজে টাকা বেশি। সেক্ষেত্রে আপনার কাজের উপর ভিত্তি করে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

অ্যানিমেশন :
গতি কিংবা প্রাণ সঞ্চারই এ্যানিমেশন। কোন বস্তু বা অংশ বিশেষের মধ্যে হয় এ প্রাণ সঞ্চার। বস্তুর গঠন প্রণালী ত্রিমাত্রিক হলে তাকে থ্রিডি এ্যানিমেশন এবং দ্বিমাত্রিক হলে টুডি অ্যানিমেশন বলা হয়। একজন এ্যানিমেটরকে চারপাশের পরিবেশের কাঠামোগত গঠন ও পরিবর্তন, বাস্তব চরিত্র সম্পর্কে গঠিত ধারণা এবং এ্যানিমেশনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোকে আলাদা আলাদা এ্যাঙ্গেলে প্রদর্শন করা, কোনো মডেলের সঠিক আকার নির্ধারণ করা, চরিত্রকে বাস্তব সম্মতরূপে ফুটিয়ে তুলতে সবগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারা, রংয়ের মিশ্রণ, বহির্দৃশ্য চিত্রায়ণ, সর্বোপরি চমৎকার কাহিনী রূপায়নের মত জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে কিংবা টিভি চ্যানেলগুলোতে, বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতেও একজন অ্যানিমেটরের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ভালো অ্যানিমেশন এর কাজ জানা থাকেল দেশের বাইরেও কাজের সুযোগ রয়েছে।

যোগ্যতা ও আয় :
গ্রাফিক্স অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়ার ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি অথবা অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা, এছাড়া অ্যানিমেশন এর ওপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেন্টারগুলোতে স্বল্পমেয়াদী কোর্স চালু আছে। এ বিষয়ে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতেও অনার্স করার সুযোগ রয়েছে। অ্যানিমেটর হিসেবে কাজে শুরুর দিকে বেতন ১০-১২ হাজার টাকা পেলেও একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ অ্যানিমেটর কোনো কার্টুন অ্যানিমেশন হাউজের সঙ্গে কিংবা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা খুব সহজেই উপার্জন করতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার :
সুন্দরের কারুকার্য করাই গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ। শিল্পীর শৈল্পিক কাজের অন্যতম কাজ গ্রাফিক্স ডিজাইন। কম্পিউটারের সাহায্যে কোনো ডিজাইনার কার্যক্ষেত্রে এ কাজকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন পূর্ণতা পায়। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা রয়েছে সব জায়গায়ই। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ফটো এডিটিং এমনকি ওয়েব ডিজাইনের ক্ষেত্রেও একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার কাজ করেন। এছাড়া যেকোন প্রকাশনা সংস্থা, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, বিলবোর্ড তৈরি, লিফলেট ইত্যাদি সবকিছুতেই রয়েছে গ্রাফিক্সের কাজ। গ্রাফিক্সের কাজ জানা থাকলে আপনি নিজেই একটি দোকান দিয়ে বসতে পারেন। ব্যক্তিগত পর্যায়েও এ কাজ ব্যবসায়িকভাবে শুরু করতে পারেন। সিনেমাসহ আরো অনেক কাজে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা বেড়েই চলছে।

যোগ্যতা ও আয় :
সৃষ্টিশীল প্রতিভা আর শৈল্পিক গুণাবলীই এখানে প্রধান যোগ্যতা। তবে কাজ জানাটাতো আছেই। এক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ইনস্টিটিউট হিসেবে রয়েছে চারুকলা। এছাড়া যেকোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৩ মাসের বা ৬ মাসের গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েই এ কাজ করা যায়। আয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ৮-১০ হাজার টাকা হলেও অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার সাথে পাল্লা দিয়ে এ পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কলসেন্টার :
গ্রাহক সমস্যার সমাধান মানেই কলসেন্টার। কলসেন্টারে দু’ধরনের কাজ হয়ে থাকেÑ ইনকামিং এবং আউটগোয়িং। কোন গ্রাহক কোনো সমস্যার সমাধান পেতে অথবা কোন ক্রেতা কেনা-কাটার ব্যপারে দ্রুত ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের কলসেন্টারে কল করেন তখন তা কলসেন্টারের জন্য ইনকামিং কল হয় এবং উক্ত কলসেন্টারকে ইনকামিং কলসেন্টার বলে।

অন্যদিকে আউটগোয়িং কলসেন্টারগুলো থেকে কর্মীরা কোনো পণ্য বিক্রয় করার ক্ষেত্রে মার্কেটিংয়ের কাজটি করে থাকেন। আউটগোয়িং কলসেন্টারে কাজ করা কর্মীদের যে কোনো বিষয় ক্রেতার নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার যোগ্যতাটুকু থাকা চাই।

বাংলাদেশে এখনই অনেক কলসেন্টার রয়েছে। বর্তমানে গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক এ ধরনের কিছু প্রতিষ্ঠানসমূহের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত কলসেন্টারগুলোর কার্যক্রম বেশ উল্লেখযোগ্য।

যোগ্যতা ও আয় :
কলসেন্টারে কাজের ক্ষেত্রে এইচএসসি পাশ হলেই হয়। প্রশিক্ষণ নিয়েই এখানে কাজ শুরু করা যায়। ইংরেজি ভাষার দখলটা এখানে জরুরি। ফুলটাইম কাজের পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজেরও সুযোগ রয়েছে। কলসেন্টারে কাজ করে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অভিজ্ঞতার সাথে আয়ের পরিমাণও বাড়বে।

অটোক্যাড ডিজাইনার :
কম্পিউটার এইডেড ডিজাইনকে সংক্ষেপে “ক্যাড” বলা হয়। অটোক্যাডের মাধ্যমে ডিজাইনগুলো অতি দ্রুত এবং সহজে সম্পন্ন করা যায়। আর্কিটেক্ট ডিজাইন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সার্ভে অফিস, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, ফার্নিচার শিল্প, ইলেকট্রনিক্যাল ডায়াগ্রাম ডিজাইন শিল্প ইত্যাদি। ক্যাড ডিজাইনাররা নিজেরা ফার্ম দিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়া ইন্টেরিয়র ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার ফার্ম, আইটি সেক্টরে অটোক্যাড ডিজাইনারদের কাজের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

যোগ্যতা ও আয় :
পাশের যোগ্যতায় এইচএসসি হলেই হয়। তবে এর জন্য অটোক্যাড অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এর পাশপাশি সৃজনশীলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করা যায়। এখানেও প্রাথমিক বেতন ১০-১২ হাজার টাকা। তবে দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে এটি ৫০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। প্রশিক্ষণ নেয়ার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কাই-হাই ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন এবং রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন অন্যতম।

মাল্টিমিডিয়া :
গ্রাহককে কোনো বিষয় দ্রুত অবহিত করতে কয়েকটি মিডিয়ার সম্মিলনে হয় মাল্টিমিডিয়া। মূলত গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও ইন্টারঅ্যাকটিভিটির সমন্বয়েই মাল্টিমিডিয়া পূর্ণতা পায়। মাল্টিমিডিয়া জগতের প্রতিটি মিডিয়ারই আছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজস্ব গতি ও অবস্থান।
বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক কাজ করছে সেসব প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার কিংবা ডেভেলপার হিসেবে কাজ করার সুযোগ আছে। শিক্ষামূলক মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার সমূহের চাহিদা বেশ ভালো বলেই শিক্ষামূলক এ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার সমূহের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে একজন মাল্টিমিডিয়া ডেভেলপারের জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। নতুন ডেভেলপারদের স্বাভাবিকভাবেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

যোগ্যতা ও আয় :
গ্রাফিক্স অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়ার ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রির সুযোগ রয়েছে। এর ওপর ডিপ্লোমাও করা যায়। তবে যেকোনো মাধ্যমে পড়ালেখার পর প্রশিক্ষণ নিয়েও মাল্টিমিডিয়া ডেভেলপার হিসেবে কাজ করা যায়। এক্ষেত্রে চর্চাটা মূখ্য। একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ মাল্টিমিডিয়া ডেভেলপার কোনো মাল্টিমিডিয়া ডেভেলাপার হাউজের সাথে যুক্ত থেকে মাসে ৩০-৫০ হাজার টাকা সহজেই আয় করতে পারবেন।

ওয়েব ডেভেলপার :
বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের এমনকি নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট জনপ্রিয় মাধ্যম। এ ওয়েবসাইট তৈরির দায়িত্বে থাকেন কিছু দক্ষ কর্মী, যাদেরকে ওয়েব ডেভেলপার বলে। একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সে প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। একজন ওয়েব ডেভেলপার ওয়েবসাইটের জন্য তৈরিকৃত ডিজাইনকে সব দিক থেকে বাস্তব সম্মত করে তোলেন।
আমাদের দেশে এখন অনেক ওয়েব সার্ভিস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ওয়েবসাইট নির্মাণের কাজ করা হয়। ফলে ওয়েব ডেভেলপারদের চাহিদাও বাড়ছে দ্রুত।

যোগ্যতাও আয় :
কম্পিউটার সায়েন্সের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি অথবা মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ই-কমার্সের ওপর অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা করলে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ভালো কাজ করা যায়। তবে অন্য মাধ্যমে পড়শোনা করেও ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করা সম্ভব। প্রথম দিকে ওয়েব ডেভেলপাররা সাধারণত ১০ হাজার টাকা আয় করতে পারলেও যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার আলোকে এ পরিমাণ ৪০-৫০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দিন দিন আইসিটির কাজের ক্ষেত্র বাড়ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখানে প্রচুর লোকের চাহিদা রয়েছে। আইসিটির এসব কাজ জানা থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজে নিজেও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বিদ্যমান। আবার একই সাথে প্রতিষ্ঠানের কাজ এবং নিজের ক্ষুদ্র উদ্যোগে সময় দেয়ার দারুন সুযোগ। বর্তমানে দেশের সর্বত্রই আইসিটিতে দক্ষ লোকের প্রয়োজন। আপনার সৃজনশীলতা, নতুনত্ব, আকর্ষণীয়তা আপনাকে নিয়ে যাবে খ্যাতির শীর্ষে।
আমরা আইসিটির ক্ষুদ্র বিষয়গুলোই এখানে আলোচনা করেছি। বড় বিষয় বললে কম্পিউটার সায়েন্স, টেলিকমিনিকেশন ইত্যাদি বিষয় আসতো। বর্তমানে এ ক্ষুদ্রজ্ঞান দিয়ে এখানে চমৎকার ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। বড় বিষয়গুলো দিয়ে ক্যারিয়ার গড়া নিঃসন্দেহে আরো বড় সম্ভব।
রচনায়- এস এম মাহফুজ

এই লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত দিন!

এখানে আপনি মন্তব্য করতে পারেন অথবা আপনার সাইট থেকেই ট্র্যাকব্যাক করতে পারেন। এছাড়াও আপনি আরএসএস এর মাধ্যমে কমেন্ট ফিড পেতে পারেন।

দয়া করে মন্তব্য করার সময় প্রাসঙ্গিক থাকুন।

মন্তব্য করার জন্য আপনি নিন্মোক্ত ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

এই সাইটটি গ্রাভাটার-এনাবল্ড। . আপনার এভাটার পেতে রেজিস্টার করুনগ্র্যাভাটার ডট কম-এ.